বরিশাল বিভাগে ছয়টি আসন চায় জামায়াত !

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ছয়টি আসনে বিএনপির কাছে ছাড় চাইবে ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই ছয় আসনে এরই মধ্যে দলীয় প্রার্থীও চূড়ান্ত করেছে দলটি।

নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের আসন বণ্টনের আগে এ নিয়ে দর কষাকষির প্রস্তুতিও নিয়েছে জামায়াত। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে জোটের সমর্থন নিয়ে তাদের দলীয় প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।

যদিও ১৯৯১ সালের পর পিরোজপুর-১ ছাড়া বিভাগের আর কোনো আসনে সাফল্য পাননি জামায়াতের প্রার্থীরা। ওই আসনে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এমপি নির্বাচিত হন।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তার মেজ ছেলে মাসুদ সাঈদীকে এবার পিরোজপুর-১ আসনে প্রার্থী করার লক্ষ্য নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছে জামায়াত। মাসুদ সাঈদী বর্তমানে পিরোজপুরের ইন্দুরকানি (জিয়ানগর) উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন বরিশাল মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কার্যকরি পরিষদ সদস্য জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর,

বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে পূর্ব জেলা জামায়াতের মজলিসে শূরা সদস্য ও ৫ বারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হাসেম, বরিশাল-৫ (সদর) আসনে মহানগরের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল,

ঝালকাঠী-২ (সদর-নলছিটি) আসনে বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস ও ঢাকা মহানগর তেজগাঁও থানা নায়েবে আমির শেখ নেয়ামুল করীম এবং পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই ছয়টি আসনে জোটগতভাবে বিএনপির কাছে ছাড় পাওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে জামায়াত।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু বলেন, ২০ দল জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে বরিশাল বিভাগের ৬টি আসনে জামায়াতের প্রবল দাবি থাকবে। পরবর্তীতে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত হবে তা মেনে নেয়া হবে।

বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল বলেন, যদি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় এবং ২০ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে বরিশাল বিভাগের ৬টি আসনে জোটের কাছে মনোনয়ন চাইবো আমরা।

এজন্য সম্ভাব্য আসনগুলোতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন আমাদের নেতাকর্মীরা।

তিনি বলেন, এই ছয়টি আসনের মধ্যে ২টি আসন অর্থাৎ পিরোজপুর-১ ও পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের ব্যাপারে আমরা খুবই সিরিয়াসলি কাজ করছি। বিষয়টি ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকেও অবহিত করা হয়েছে।

কারণ পিরোজপুরে ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করেও আমাদের প্রার্থী মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বিজয়ী হয়েছেন। এবার সেখানে তাঁর ছেলে মাসুদ সাঈদী নির্বাচন করলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাউফলের বিএনপি দু’ধারায় বিভক্ত। এখানে বিএনপির একজনকে মনোনয়ন দিলে অন্যজন পুরো টিম নিয়ে তার বিরোধিতা করেন। ২০০৮ সালের বিগত নির্বাচনেও আমরা বিএনপির এমন কোন্দল দেখেছি।

যার কারণে সেই নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী এখানে পরাজিত হয়েছেন। সেক্ষেত্রে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে এখানে ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল।

তিনি বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা গত কয়েকবছর যাবত ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করে যাচ্ছেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

Facebook Comments