স্বীকৃতির হালুয়া পেয়েই যে আমরা অতীত ভুলে যাবো, বিষয়টি এতো সোজা না

কওমী ফোরামের অন্যতম সদস্য ও ঢাকা দারুল উলুম রাহমানিয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা হাসান জামিল কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে বলেছেন, সামান্য স্বীকৃতির হালুয়া পেয়েই যে আমরা অতীতের সব স্মৃতি ভুলে যাবো, বিষয়টা এতো সোজা না।

স্বীকৃতি দিয়েছেন তাই সাধুবাদ জানাই। তারমানে এই নয় যে আমাদের কিনে নিয়েছেন।
২৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম আয়োজিত কওমী সনদের স্বীকৃতি ইস্যুতে ‘ইনসাফ সংলাপ’এ তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা হাসান জামিল বলেন, একটা পক্ষ (জামাতে ইসলামী) স্বীকৃতির বিরোধিতা করে বলছেন যে, হেফাজত ৫মে’র রক্তের দাগ ভুলে গিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে স্বীকৃতি নিচ্ছে। আমার কথাটা কারো কাছে শ্রুতিকটু মনে হতে পারে তারপরও বলছি।

আমরা একটু সুবিধা নিলাম আর এতেই আমাদের উপর এমন চাপ দেওয়া হচ্ছে যে আমরা রক্তের দাগ ভুলে গেছি।
আমাদের একটা জিজ্ঞাসা, একজন নেতার যখন ফাঁসির রায় হলো তখন শতাধিক কর্মী মৃত্যুবরণ করলো।

শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হলো। প্রায় দশ বছর যাবত বিএনপি-জামাতের নেতৃবৃন্দরা নির্যাতন সয়ে যাচ্ছেন। তারপরও কি তাদের কর্মীরা সরকারি সুবিধা প্রত্যাখ্যান করেছেন? তারা কি চাকরিগুলা ছেড়ে দিয়েছেন?

তিনি বলেন, তারা যদি তাদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে একথাটা বলতো যে হেফাজত রক্তের দাগ ভুলে গেছে তখন তাদের দাবিটা একটা নৈতিক যায়গা থেকে আসতো। তারা তো নেতাকর্মীদের নির্যাতনের কারণে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেয়নি, তাহলে আমাদের স্বীকৃতি নিয়ে কেনো এতো মাথাব্যথা?

তিনি আরো বলেন, ,আমরা তো আওয়ামী লীগ থেকে স্বীকৃতি নিতে চাইনি। আমরা তো তোমাদের (বিএনপি-জামাত সরকার) কাছ থেকে নিতে চেয়েছিলাম, তোমরা দেওনাই।’ আপনারা এখন বলেন, এটা আওয়ামী লীগ সরকারের একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

তাহলে আপনারা এই সুযোগ কেনো গ্রহণ করলেন না? মাওলানা হাসান জামিল বলেন, যারা রাজনীতি করেন তাঁরা কেউ আওয়ামী লীগকে বেশি কৃতিত্ব দিতে চান। আবার বিএনপিকে একেবারে কৃতিত্ব দিতে নারাজ।

আমরা মাঝামাঝি থাকবো। আওয়ামী লীগের কৃতিত্ব আছে অস্বীকার করার সুযোগ নাই। তেমন বিএনপির ভুলও রয়েছে।

অারো পড়ুন-বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে-ফখরুল

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে সারাদেশে বিএনপির নেতা কর্মীদের নামে গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে বিএনপিকে দূরে রাখার জন্য সরকার যত ধরনের কূটকৌশল আছে তা প্রয়োগ করছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে গায়েবি মামলা হয়েছে ৪ হাজার ১৪৯টি। এসব মামলায় এজাহারে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে ৮৬ হাজার ৬৯২ জনকে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭৭ জনকে।

to days pressbriffing

সব মিলিয়ে আসামির সংখ্যা ৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৭ জন। এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৪ জনকে। রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে ২৭৪ জনকে।’
তিন বলেন, সরকার সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে।
আমাদের সিনিয়র নেতাদের নামে যেসব মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে তা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছে সরকার। যাতে তাদেরকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা যায়। আমাদের দলীয় প্রধানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে সরকার।

অথচ সরকারপ্রধান ও আওয়ামীলীগের নেতারা দেশে বিদেশে বলছেন নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে।’

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘গায়েবি মামলার বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করার চিন্তা করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান বা যারা এই মামলা দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এই বিষয়ে আমরা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করবো

Facebook Comments