ইসরাইলের সংগে পরের যুদ্ধ হবে সব ছেয়ে ভয়াবহ :হামাস নেতা

ইসরায়েল ও হামাস যদি এই মুহূর্তে কোনও কিছুতে সম্মত হয় তাহলে সম্ভবত তা হচ্ছে গাজায় আরেকটি যুদ্ধ।

এমন দাবি করেছেন ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী সংগঠন হামাসের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার। ইসরায়েলের ইংরেজি দৈনিক ইয়েডিয়থ আহরোনথকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পরের যুদ্ধটি হবে সবচেয়ে ভয়াবহ।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজায় হামাসের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো আরবি ভাষার বাইরে কোনও সংবাদমাধ্যম সাক্ষাৎকার দিলেন সিনওয়ার। এবার যুদ্ধ শেষ হলে হামাস তা শেষ হতে দেবে না জানিয়ে তিনি বলেন,

‘এটা তৃতীয় (যুদ্ধের) মতো শেষ হতে পারে না, যেটি দ্বিতীয়টির মতো শেষ হয়েছিল, সেটিও আবার প্রথমটির মতো শেষ হয়েছিল’। প্রতিবেদক ফ্রান্সেকা বরিকে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিদের গাজা পুর্নদখল করতে হবে।’ তবে নতুন যুদ্ধ কারও স্বার্থের জন্য হবে না বলেও জানান হামাস নেতা।

সাক্ষাৎতারে সিনওয়ার রকেট হামলা ও গাজা-ইসরায়েল সীমান্তে বিক্ষোভ থেকে শুরু করে শান্তি আলোচনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

২০১৮ সালের ৩০ মার্চ ভূমি দিবস উপলক্ষে ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ নামে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দখলদার বাহিনীর হাতে অন্তত ১৯০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ হাজার মানুষ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে বেশ কয়েকবার রকেট হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বারবার বলে আসছে, ‘শান্ত সঙ্গে শান্ত বৈঠক করবে’। তারা বলে আসছে, যদি ইসরায়েল সীমান্তে বিক্ষোভ না হয় আর তারা ইসরায়েল অভিমুখী না হয় তাহলে ইসরায়েলও গাজায় কোনও হামলা করবে না।

সিনওয়ার ইয়েডিয়থ আহরোনথকে বলেন, তিনি ওই নীতি সমর্থন করেন। কিন্তু তার কাছে শান্ত থাকার সংজ্ঞা ভিন্ন। অবরোধের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শান্তির বিনিময়ে শান্তি থাকবে। আর এটা অবরোধ শেষ করার বিনিমেয় করা হবে।’

হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে ২০০৭ সাল থেকে গাজার ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল ও মিসর। এখন গাজায় ওষুধ, পরিষ্কার খাবার পানি ও বিদ্যুতের চরম সংকট রয়েছে।

সেখানে মাত্র ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। সিনওয়ার বলেন, ‘দীর্ঘতর শান্তির সবচেয়ে ভাল নিশ্চয়তা হলো বিনিয়োগ, উন্নয়ন, লোকজনের কাজ, শিক্ষা ও ভ্রমণের জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ দেওয়া।’ তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সমস্যার কোনও সামরিক সমাধান হয় না। আর এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সমস্যা রয়েছে।’

সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী ঘটনা গাজাকে আবার খবরের শিরোনামে এনেছে স্বীকার করলেও সিনওয়ার মিডিয়া কাভারেজের ধরনকে দোষারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে রক্ত থাকলেও আমরা শুধুমাত্র একটি গল্প বা একটি উপাদান হয়ে পড়ি। আর শুধু তাই নয়, যদি কোনও রক্তপাত না হয়, তাহলে কোনও নিউজই হয় না।’

Facebook Comments