বিজেপি নেতার বাংলাদেশ দখলের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি!

ভারতের শাসক দল বিজেপির সিনিয়র নেতা ও সাংসদ সুব্রামানিয়ান স্বামীর বাংলাদেশ দখলের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিশিষ্টজনরা। ভারতীয় দূতাবাসে দেয়া এক স্মারকলিপিতে-

সুব্রামানিয়ান স্বামীর মন্তব্য প্রত্যাহার করে তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিজেপির সিনিয়র নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী ত্রিপুরায় একটি সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছিলেন,

বাংলাদেশে মন্দির ধ্বংস করা হচ্ছে, হিন্দুদের মন্দিরকে মসজিদ বানানো হচ্ছে এবং হিন্দুদেরকে গায়ের জোরে মুসলমান বানানো হচ্ছে। বাংলাদেশে যদি হিন্দুদের ওপর এসব নির্যাতন বন্ধ না করা হয়,

তাহলে তিনি ভারত সরকারকে সুপারিশ করবেন বাংলাদেশকে দখল করে নিতে। বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদলিপিটি পাঠিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আল্লামা মুহম্মদ মাহবুব আলম,

সাংবাদিক সাইয়্যিদ মুক্তাদুল হুসাইন ও সাংবাদিক মুহম্মদ আরিফুর রহমান; বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট এস. এম. শফিকুল ইসলাম, ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুহম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী,

বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কাজী মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, বিশিষ্ট ফার্মাসিস্ট এ. বি. এম. রুহুল হাসান, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মুহম্মদ আব্দুল আলী,

বিশিষ্ট প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ আমিনুল ইসলাম মিয়া। আজ সকাল ১১ ঘটিকায় স্মারকলিপিটি ভারতীয় দূতাবাসে প্রদান করা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন দূতাবাসের কর্মকর্তা রওজিয়া।

বিজেপি নেতার মন্তব্য প্রসঙ্গে স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশে হিন্দুদের মন্দির ধ্বংস বা দখল, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বিকৃত বিবরণ।

বাংলাদেশকে ভারতের দখল করে নেয়ার চিন্তাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য, ঘৃণ্য ও অবমাননাকর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে স্মারকলিপিতে। বিশিষ্ট নাগরিকগণ বলেন, এটা একটা চরম দায়িত্বহীন ও ভয়াবহ মন্তব্য।

সুব্রামানিয়ান স্বামীর এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যটি সহ্যের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের কতিপয় রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তার বাংলাদেশকে দায়ী-

করে বক্তব্য দেয়ার প্রবণতাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকগণ। যেমন, কিছুদিন আগে বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ‘ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী নাগরিক’দেরকে উইপোকা বলেছিলেন।

যদিও অমিত শাহ সেই কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি, তবু তিনি একটি স্বার্বভৌম দেশকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন!
বিশিষ্ট নাগরিকগণ বলেন,

বাংলাদেশকে জড়িয়ে বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামীর ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অশিষ্ট মন্তব্যে বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভারতীয় জনগণের দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের কেবল ক্ষতিই হবে।

এভাবে অন্য দেশের ঘাড়ে দোষ চাপানোটা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের সহজ পথ বলে স্মারকলিপিতে বলা হয়। বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামীর উল্লেখিত মন্তব্যসমূহ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে।

Facebook Comments