বেগম জিয়ার চিকিৎসায় ৫-সদস্য বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিলেন হাইকোর্ট

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করতে ও চিকিৎসাসেবা শুরু করতে ৫ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিএসএমএমইউর চিকিৎসক আবদুল জলিল চৌধুরী ও বদরুনেসা আহমেদ এ বোর্ডে থাকবেন।

আদালত বলেছেন, অপর তিনজন সদস্য সরকার মনোনয়ন করবে। তবে ওই তিনজনের কেউই কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের স্বাচিপ ও ড্যাবের বর্তমান বা অতীত সদস্য সমর্থক হতে পারবেন না। বোর্ডকে দ্রুত খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা শুরুর নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আদালত এও বলেছেন, আবেদনকারী (খালেদা জিয়া) তাঁর পছন্দ অনুসারে ফিজিওথেরাপিস্ট, গাইকোনকলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন। তবে বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে তিনি বাইরে থেকেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনতে পারবেন।

ইউনাইটেড বা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে নির্দেশনা চেয়ে ৯ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া রিট করেন, যার ওপর গত মঙ্গল ও বুধবার শুনানি হয়। আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন আদালত।

কোরআন প্রেমিক, দেশপ্রেমিক কোটি জনতার মতো আমিও এক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি:মাসুদ সাঈদী

প্রতিনিয়ত এমন একটা সমাজের চিত্র মনের মাঝে এঁকে চলেছি, যে সমাজে একমাত্র আল্লাহর প্রভূত্ব প্রতিষ্ঠিত। যেখানে মানুষরূপী দানবেরা মানুষের ভাগ্যবিধাতা হয়ে জেঁকে বসতে পারে না।

যে সমাজে নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, মুসলিম অমুসলিম সবার রয়েছে বেঁচে থাকার সমান অধিকার, রয়েছে খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানের নিশ্চয়তা।

এমন একটা সমাজের স্বপ্ন বুনে চলেছি ..
যে সমাজের আমীর, দূর ফোরাতের তীরে ক্ষুধায় কোন কুকুরের মুত্যুতেও জবাবদিহিতা অনুভব করে। যে সমাজের বিচারকের দরবারে অপরাধী নিজ সন্তান হলেও সাজা দিতে পিছপা হয়না। যে সমাজে একাকী নারী সানা থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত নির্ভয়ে যাত্রা করে।

আমি তেমন এক বিপ্লবের স্বপ্ন দেখি।

আরো পড়ুন:জাতীয় ঐক্যের ৫দফা বিএনপি জামায়াতের ফটোকপি :ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’য় দুই প্রবীণ রাজনীতিবিদের পাঁচ দফা দাবি এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান বিএনপি-জামায়াতের দাবি ও অবস্থানের ফটোকপি।

এদিকে সংসদে পাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাকস্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহকে ব্যাহত করবে, এমন উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন,

বাংলাদেশের সংবিধান প্রদত্ত বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা সাংবাদিকদের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখেই সব আইন হবে। কোনো সাংঘর্ষিক আইন পার্লামেন্ট পাস করবে না, পাস করলেও তা আদালতে নাকচ হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে সমসাময়িক রাজনীতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত তথা ২০ দলীয় জোটের মতোই জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের পাঁচ দফা দাবি দেখে এটা সুস্পষ্ট যে, তারা সাংবিধানিক সংকট ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করে অস্বাভাবিক সরকার আনতে চাইছেন।

গত শনিবার পাঁচ দফা দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং নয়টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে জোটবদ্ধ নির্বাচন, সৎ, যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আইন প্রণয়ন-শাসন কাজ পরিচালনার অঙ্গীকার করে জাতীয় ঐক্য গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

হাসানুল হক ইনু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ১০ বছরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করা, নির্বাচন বানচাল করা, দেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দেওয়ার জন্য যে সহিংসতা-নাশকতা-অন্তর্ঘাত-জঙ্গি-আগুন সন্ত্রাস হয়েছে সে বিষয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করে আসছে।

তাদের এই নীরবতা সহিংসতা-নাশকতা-অন্তর্ঘাত-জঙ্গি-আগুন সন্ত্রাসকেই সমর্থন দিয়ে গেছে।

আমরা আশা করেছিলাম, এই প্রবীণ রাজনীতিকরা দেশের মূল রাজনৈতিক সমস্যা জঙ্গি সন্ত্রাসের আপদ-বিপদ-হুমকি-ঝুঁকি মোকাবিলা করা, জঙ্গি-সন্ত্রাসে আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা-পৃষ্ঠপোষকদের রাজনৈতিক অপতৎপরতা মোকাবিলা করা।

শান্তি ও উন্নয়ন ধারা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জনমত তৈরির চেষ্টা করবেন। কিন্তু তাদের বক্তব্যে আমি হতাশ হয়েছি, বলেন তথ্যমন্ত্রী।

যুক্তফ্রন্টের পাঁচ দফা দাবির বিষয়ে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্ট যে পাঁচ দফা দিয়েছে তা নতুন কিছু নয় বিএনপি-জামায়াত-২০ দলীয় জোটের দাবি পুনরুল্লেখ ও প্রতিধ্বনি মাত্র।

তাদের পাঁচ দফা দাবি সাংবিধানিকভাবে ও আদালতের রায় মীমাংসিত বিষয়ের সম্পূর্ণ বিপরীত।

নির্বাচনকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সিভিল প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করার সুনির্দিষ্ট আইন থাকার পরও তারা বিএনপি-জামায়াত ২০ দলীয় জোটের মতোই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার দাবি করেছেন মাত্র। এটা অস্বাভাবিক সরকার আনার ষড়যন্ত্র।

হাসানুল হক ইনু বলেন, সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আনা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি এবং এখন থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার না করার দাবি করে তারা আইন আদালত বিচার সবকিছু বন্ধ করে রাখার আবদার করেছেন। এটা ঝুঁকিপূর্ণ প্রস্তাব।

সব রাজনৈতিক দল-শব্দের আড়ালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা জঙ্গি সন্ত্রাস আগুন সন্ত্রাসের মামলায় অভিযোগে আটক দণ্ডিতদের মুক্তি চাওয়ার নামান্তর। এটা ভয়াবহ প্রস্তাব।

তিনি বলেন, নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করার দাবিও কালক্ষেপণ করে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান না করে দেশকে নির্বাচনের বাইরে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা মাত্র। পাঁচ দফা দাবি নাকচ করে দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আশা করি ড. কামাল নির্বাচনকালীন সরকারের একটি স্থায়ী ফর্মা করে দেবেন।

Facebook Comments