ইসলামী আন্দোলনের জন্য ক্যারিয়ার তো তখন প্রমানিত হবে যখন ক্যারিয়ার গড়ে সেই ক্যারিয়ারের একটা বড় অংশ আন্দোলনের জন্য উৎসর্গ করা হবে।

ইয়াছিন আরাফাত -শিবির সভাপতি

ধরে নিলাম রাষ্ট্রীয় কড়াকড়ি নিপিড়ন যুলুম নির্যাতন এবং
ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা গুলোর ভয়ে আন্দোলনের জন্য গড়া ক্যারিয়ার রাষ্ট্র কেড়ে নিবে ভয়ে আপনি প্রকাশ্যে বর্তমানদের কাউকে কাছে ঘেষতে দেননা ঠিক আছে।

তাহলে বলুন নিজের গরজে রাতের অন্ধকারে, গোপনে বা কোন বিশেষ বাহক ও দূতের মাধ্যমে আপনি প্রতিনিয়ত বর্তমানদের খোঁজখবর রাখছেন? পরামর্শ বা নির্দেশনা পৌঁছে দিচ্ছেন?

মাসের শুরুতেই প্রকাশ্য আন্দোলন সংগ্রামে লিপ্ত বর্তমান ভায়েদের কাজকে সহযোগিতার জন্য আপনার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার থেকে উপার্জিত আয়ের কতটুকু অংশ তাদের জন্য সবার আগে পাঠিয়ে জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে দোয়া করছেন?

আমাদের দেশে বিগত দুই তিন যুগে আমাদের হাজার হাজার ভাই নিজের উদ্যোগে, কারো সহযোগিতায় বা সংগঠনের চেষ্টায় ছোট, বড়, মাঝারি মানের ক্যারিয়ার গড়েছেন।

কেউ নিজেই প্রতিষ্ঠান করেছেন, কেউ ব্যবসা করছেন, কেউ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ স্কুলের শিক্ষক হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের সুবাদে অসংখ ব্যাংকার হয়েছেন, কেউ নিজের যোগ্যতায় ডাক্তার হয়েছেন,

কেউ প্রকৌশলী সহ শত সহস্র ধরণের ক্যারিয়ার নির্মান করেছেন। এদের অনেকের পিছনেই প্রত্যাক্ষ পরোক্ষ ভাবে সংগঠনের ভূমিকা ছিল। সংগঠন যতটুকু সম্ভব করেছে। এখন তাদের মানে আমাদের ফিডব্যাক দেয়ার ক্ষেত্রে সংগঠনকে কতটুকু দিচ্ছি সেটা কি বিবেচনা করে দেখেছি?

আমি একজন সাধারণ ছাত্র থেকে বৌ, বাচ্চা, বাড়ি, গাড়ি সব অর্জন করার পরও সংগঠনকে সহযোগিতা বেলায় চরম কৃপণ। আমি ১০/২০/৩০/৪০/৫০ লাখ টাকা খরচ করে নগদে লোনে অট্টালিকা বানাচ্ছি অথচ সংগঠনের ছেলেরা মাসিক বা বাৎসরিক চাঁদার জন্য দিনের পর দিন অনুনয় বিনয় করার পর তাদের সংসার

চালাতে হিমসিম খাওয়ার দীর্ঘশ্বাস শুনাচ্ছি। প্রতিদিন পারিবারিক চাহিদার স্বয়ংক্রিয় ফিরিস্ত বানাচ্ছি যা নাহলে জীবন চলে যেত কিন্তু মাসিক ৫০/১০০ টাকা দেয়ার বেলায় কত কষ্টের আহাজারি। বাসায় এসোনা। তোমার ভাবী পছন্দ করেনা। এমাসে খরচ বেড়েছে পরের মাসে এসো।

বাড়িতে এসি গাড়িতে এসি হচ্ছে কিন্তু আন্দোলনের জন্য খরচের হাত প্রসারিত হচ্ছেনা। ১০/২০/৩০/৪০/৫০ হাজার পর্যন্ত উপার্জন বৃদ্ধি পেলেও আজ ১০/২০/৩০/৪০/৫০ টাকা এয়ানতের বেশি বেরুচ্ছেনা।

একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যিনি সুদিনে সংগঠনের সহযোগিতায় শিক্ষক হয়েছেন তিনি ১০০ টাকা এয়ানত দিতে ১০০০ টা কথা শুনাচ্ছেন। ড্রইং রুমে ১ ঘন্টা বসিয়ে রাখছেন। এমন ধরণের ক্যারিয়ার গড়ে ইসলামী আন্দোলনের কোন উপকারে আসবেনা মসাই।

যে ক্যারিয়ার সংগঠনের জন্য ছটফট করেনা, যে ক্যারিয়ার সামাজিক কাজ গুলোতে ছুটে যায়না, যে ক্যারিয়ার প্রতিবেশির হক আদায়ে তৎপর হয়না, যে ক্যারিয়ার আত্মীয়দের খোঁজখবর রাখেনা সেই ক্যারিয়ার আন্দোলনের জন্য নয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নয়।

আজকে দেশে যে পরিমান ক্যারিয়ারওয়ালা সাবেক জনশক্তি আছে তারা যদি প্রয়োজন মত বর্তমানদের সহযোগিতা করতো, প্রয়োজন মত খোঁজখবর রাখতো পরামর্শ দিতো তাহলে এই আন্দোলন অনেক আগেই সফল হয়ে যেত।

হ্যাঁ ভাই জানি বর্তমান অতীত সকল সময়ে সংগঠনের এবং নেতৃত্বের বহুমুখী ত্রুটিবিচ্যুতি, ব্যর্থতা, দোষ রয়েছে। কিন্তু সেই কথা ভেবে আমরা আমাদের সহযেগিতার হাত গুটিয়ে নিয়ে আমাদের কি উপকার করছি? বরং আমরাও দুনিয়াদারির মধ্যে ডুবে নিজেদের চিরস্থায়ী অন্ধকারের পথে নিয়ে যাচ্ছি।

ভুলত্রুটি থাকলে আমি পরামর্শ দিব, সমালোচনা করবো, প্রয়োজনে সঠিক পথে ফেরাতে জনমত গড়বো কিন্তু প্রিয় কাফেলাকে সহযোগিতা থেকে কখনো বিরত থাকবোনা।

কোন অযুহাতেই না। প্রত্যাক্ষ পরোক্ষ কৌসলে গোপনে রাতের অন্ধকারে হলেও আন্দোলনের ভাইদের কাছে পৌঁছাবো ইনশাআল্লাহ্। সংগঠনের প্রতি ভালবাসা আমার সবার চেয়ে উপরে থাকবে ইনশাআল্লাহ্। এমন ক্যারিয়ারই কেবল আন্দোলনের জন্য কাজে আসতে পারে।

কিন্তু আমাদের চিত্রটা বিপরীত,

Facebook Comments