আর কত বৈষম্যের শিকার হবে মাদ্রাসা ছাত্ররা?

আজ ১লা অক্টোবর। বাংলাদেশ মাদ্রাসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ ঘোষিত প্রতিবারের ন্যায় এবারেও মাদ্রাসা দিবস পালিত হয়। আজকের এই দিনে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।

তৎকালীন কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের শিক্ষা-সংষ্কৃতি, তাহজীব-তমুদ্দন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ধর্মীয় চেতনা বিকশিত হয়েছিল। এই কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা শুধু আলেম তৈরির কারখানা ছিলো না এটি পরবর্তীতে ভারত উপমহাদেশে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলো।

কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অগ্রগতি তেমন সুবিধার ছিলোনা। একে পথে পথে বাধার সৃষ্টি করতো ইংরেজরা। কারন এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইংরেজ সরকারের কোন উপকার হইতনা বিধায় তারা কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উঠিয়ে দিতে শুরু করে।তন্মধ্যে অন্যতম হল ফিকাহ শাস্ত্র।

এভাবে নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে চলতে আলিয়া মাদ্রাসা। এসময় আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে আরবী, ফারসি ও উর্দূতে শিখানো হতো। দেশবিভাগের পর পাকিস্তান শাসনামলেও এ ধারা বহাল ছিলো। দেশস্বাধীনের পর এ দেশে যে আলিয়া মাদ্রাসাগুলো প্রতিষ্ঠিত তা কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসার অবদান।

বাংলাদেশে আলিয়া মাদ্রাসার প্রাচীনতম মাদ্রাসার ঐতিহ্য বহন করছে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা।

তৎকালিন আলিয়া মাদ্রাসাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিলো ইংরেজ শাসকেরা কিন্তু বর্তমানে ষড়যন্ত্র করছে নামকাওয়াস্তে মুসলিম শাসকেরা। আপনারা হয়ত বলবেন, কোথায় ষড়যন্ত্র করছে।

আপনারা হয়ত জানেনা আমাদের দেশের হাইভোল্টোজের নাগরিকের পুত্র আফসোস করে বলেছিলো, বাংলাদেশে ৩জন ছাত্রের মধ্যে ১জন মাদ্রাসার ছাত্র তাই আমরা মাদ্রাসার ছাত্র কমানোর উদ্দেগ নিয়েছি।
এ কথার সত্যতা পাই, যখন দেখি সেনাবাহিনীতে মাদ্রাসার ছাত্র নেয়া নেয়া বন্ধ করে দেয়। সরকারি চাকুরীতে মাদ্রাসার সার্টিফিকেট দেখলেই বের করে দেয়। এগুলো কিসের আলামত?

বর্তমান সরকার শিক্ষানুরাগী সবাই বলে আমিও বলি। কারণ এই সরকার অনেক কলেজ জাতীয়করণ করেছে। কিন্তু আপনারা জানেন কি, গোটা বাংলাদেশে মাত্র ৩টি সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা। ১. ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ২.সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ৩. বগুড়া সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা। এছাড়া আর কোন আলিয়া মাদ্রাসা সরকারি নেই অথচ প্রত্যেক বছর কলেজগুলো জাতীয়করণ করা হচ্ছে।
:
আলিয়া মাদ্রাসায় ইংলিশ ছিলনা বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগে মাদ্রাসা ছাত্রদের সাথে বৈষম্য করে। আলিয়া মাদ্রাসার সিলেবাসে ইংরেজি ২য় পত্র যোগ করার পরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাদ্রাসা ছাত্রদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেইনি অথচ প্রতিবছর মাদ্রাসার ছাত্ররা তাদের মেধার পরিচয় দিচ্ছে।

২০১৬ সালে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২জন পাশ করে তারমধ্যে ১জন মাদ্রাসার ছাত্র ছিলো। সে খ ইউনিটে ১ম হয়েছিলো। কিন্তু কষ্টতা লাগে তখন শুনি ভাইটিকে ইংলিশে পড়তে দেইনি ঢাবি কর্তৃপক্ষ। এবার ঢাবিতে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে ৮৫ জন ছাত্র চান্জ পায়। তারপরেও মাদ্রাসা স্টুডেন্টদের সাথে বৈষম্য কেন?

মাদ্রাসার স্টুডেন্টরা কি বাংলাদেশের নাগরিক নয়? পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হইলেন বৈষম্যের জন্য তাহলে স্বাধীন দেশে বৈষম্য কেন। এ বৈষম্যের কি শেষ হবেনা? প্লিজ মাদ্রাসা স্টুডেন্টদের সাথে বৈষম্য নয় একটুখানি জেনারেল স্টুডেন্টদের মতো সুযোগ-সুবিধা দিন। দেশকে সোনার দেশে পরিনত করে দিবে। ২০৪১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।

শেষে একটাই কথা বলব কলিকাতা মাদ্রাসার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন না হওয়ায় নিরবে কেঁদে যাচ্ছে হাজারো মাদ্রাসা ছাত্র। তাহলে কি ধরে নিবো, আপনারা হলেন নব্য ইংরেজ, নব্য ব্রাক্ষ্মণ্যবাদী। যদি নাই হন, তাহলে মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার আর কত দেরি? পাঞ্জেরী।

লেখক: Anowar Hossain
অধ্যায়নরত,
ফুলবন ফাযিল মাদ্রাসা, দিনাজপুর
ফাযিল (বি.এ)

Facebook Comments