অসুস্থ জান্নাতির পাশে মাসুদ সাঈদী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত এক সপ্তাহ ধরে চোখে কোন কিছুই দেখছেন না জান্নাতি। যার জন্মের ২২ দিন পূর্বে বাবা জহিরুল ইসলাম খোকন মারা গেছেন। আর মা সালমা বেগম জান্নাতির জন্মের তিন মাস পরে বিয়ে করে অন্য একজনকে। দরিদ্র দাদা জব্বার গাজীর ঘরে বড় হয় সে।

বর্তমানে জান্নাতি পিরোজপুরের মধ্য ইন্দুরকানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী। জন্ম থেকেই প্রতিটি পদে পদে আপদ ঘিরে আছে জান্নাতিকে। গত এক সপ্তাহ ধরে দুই চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না সে। এই মাসের শুরু দিকে সে জ্বরে আক্রান্ত হয়।

পরে ধিরে ধিরে তীব্র মাথা যন্ত্রনায় ভুগতে শুরু করে। এর পরে হারায় দৃষ্টি শক্তি। প্রথমে ইন্দুরকানী, পিরোজপুরে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। টাকা অভাবে উন্নত চিকিৎসার কথা ভাবতে পারছিলেন না জান্নাতির দাদা জব্বার গাজী।

এসময় ইন্দুরকানী প্রবাসী ফাউন্ডেশনের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের চেষ্টায় সংগঠনের সদস্যরা অর্থ সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসে। বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেন স্থানীয় স্বেচ্চাসেবক সবুজ আলম। জান্নাতির অসহায়ত্বের খবর প্রকাশিত হয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল পিরোজপুর রিপোর্ট ডট কম এ।

খবরটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে খুলনায় চিকিৎসা দেয়া হয় জান্নাতিকে। সেখান থেকে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেয়া হয়।

বিপাকে পরে তার পরিবারটি। কিভাবে কি হবে তাই ভেবে। জান্নাতির অসুস্থতার কথা জানতে পেরে ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি খুলনায় জান্নাতিকে পাঠাবার পরে হাসপাতালের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেন।

এর পরে তিনি জান্নাতিকে ঢাকায় নিয়ে আসতে বলেন তার পরিবারকে। শনিবার সকালে জান্নাতিকে ঢাকায় আনা হয়।জান্নাতির পরিবারের সাথে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন ইন্দুরকানী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহাদুল ইসলাম শিমুল, স্বেচ্ছাসেবক মোঃ খোকন ও জান্নাতির দাদি জোহরা বেগম।

শনিবার সকাল ১০ টায় মাসুদ সাঈদী নিজে গাড়ি ড্রাইভ করে ওই হাসপাতালে উপস্থিত হন। নিজেই ডাক্তারের রুমে নিয়ে যায় জান্নাতিকে। সেখানে ডাক্তারের সাথে বিস্তর আলোচনা করেন এই অসহায় মেয়েটির জন্য তিনি।

এরপরে জান্নাতিকে হাসপাতালে ভর্তি করার সকল ধরনের প্রক্রিয়া নিজেই সম্পন্ন করেন মাসুদ সাঈদী। এসময় তাকে বিভিন্ন রুমের সামনে জান্নাতির ফাইল পত্র নিয়ে দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘুরে ফিরে একই কক্ষে বার বার হাজির হতে হয় হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী।

এমনকি লিফটের অপেক্ষা না করে নিচ তলা থেকে সপ্তম তলায় হেটে সিড়ি বেয়ে উঠেছেন তিনি। তারপরেও বিন্দুমাত্র ক্লান্ত বা বিরক্ত হন নাই এই উপজেলা চেয়ারম্যান। শেষ পর্যন্ত দুপুর তিনটার দিকে হাসপাতালে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় জান্নাতির।

মাসুদ সাঈদী জান্নাতিকে হাসপাতালের বেড পর্যন্ত পৌছে দিয়ে তাদের কাছ থেকে বিদায় নেন। এসময় জান্নাতির দাদি জোহরা বেগম আবেদ আপ্লুত হয়ে পড়েন উপজেলা চেয়ারম্যানের আচরনে।

তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে মাসুদ সাঈদীকে বিদায় জানান। এ বিষয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। তাই অসহায় জান্নাতির পাশে দাড়াতে পেরেছি বলে আল্লাহ্’র কাছে শুকরিয়া জানাই। জান্নাতির দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

সিনহারর সঙ্গে জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার রাজ্জাকের বৈঠকের মিথ্যা সংবাদ প্রচাররের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে আমাদের সময় ডট কম-এ ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘এসকে সিনহা বৈঠক করবেন জামায়াত নেতা রাজ্জাকের সঙ্গে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বৃহ্স্পতিবার ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক সংবাদপত্রে পাঠানো প্রতিবাদে বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। উক্ত শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বিচারপতি এসকে সিনহার সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন’ যা সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন।

শিবিরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত, সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইনসহ নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা এবং ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে শিবির নেতাকর্মীদেরকে গণগ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠা মুক্তিকামী জনতাকে

দমন করতে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সারাদেশে গণগ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলার ফ্যাসিবাদী পথ বেছে নিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে অবৈধ সরকার চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক আচরণ করছে। যা গত কয়েক দিন যাবত চলছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় শফিউল আলম তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধুকে নিয়ে হজ্জ ফেরত মা ও বড় ভাইকে রিসিভ করতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যান।

মা ও বড় ভাইকে নিয়ে বাসার উদ্দেশে গাড়িতে উঠলে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা মায়ের ভাইয়ের সামনে থেকেই শাফিউল আলমকে তার ছোট ভাই ও ছোট ভাইয়ের বন্ধু সহ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

পরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার বাসা থেকে মো. শফিউল্লাহ ও মো. মাআজ নামে আরো দুই শিবির কর্মীকে প্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে হাজির না করে গুম করে রাখে। মামলায় পুলিশ উল্লেখ করেছে ৫ জনকে গতকাল গ্রেফতার করা হয়েছে।

অথচ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল আরো ১৬ দিন আগেই। এ বিষয়ে পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। প্রায় সব গণমাধ্যমে গ্রেফতারের পর গুমের বিষয়টি ফলাও করে প্রচার হয়েছে।

আজ ১৬ দিন পর তাদের নামে মিথ্যা বিষ্ফোরক মামলা দিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

একই সাথে পুলিশ এই বানোয়াট মামলার সাথে উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ভাবে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারি জেনারেলসহ নেতৃবৃন্দকে জড়িয়েছে। যা পুলিশের দায়িত্বহীনতার আরেকটি ঘৃন্য নজির।

এমনিতেই গ্রেপ্তারের পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির না করে ১৬দিন গুম রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনার চরম লঙ্ঘন। তারওপর সরকারের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সভাপতি, সেক্রেটারি জেনারেল,

কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও ঢাকা মহানগরীর নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ যে কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে উঠেছে তার প্রমাণ দিয়েছে। মূলত ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পাকাপোক্ত করতেই শিবির নেতাকর্মীদের বেআইনি ভাবে ১৬ দিন গুম করে রেখেছে পুলিশ। এর আগেও পুলিশ বহুবার এমন জঘন্য নাটক সাজিয়েছে।

প্রতিবার গণধিক্কার পেলেও পুলিশ এই অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে। জনগণ পুলিশের এমন দায়িত্বহীন ও সেবাদাস চরিত্রের সাথে আগে থেকেই পরিচিত। আইনের রক্ষকের পোষাক পড়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করায় পুলিশের প্রতি জনগণের নূন্যতম শ্রদ্ধা,

আস্থা ও বিশ্বাসটুকুও উঠে গেছে। যা দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিবে। আমরা পুলিশের এই নিচু মানসিকতা, দায়িত্বহীনতা ও আইনের পোষাকে বেআইনি অপকর্মের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অন্যদিকে সারাদেশে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের উপর নির্বিচারে গণগ্রেফতার চালাচ্ছে পুলিশ।

আজও কোন কারণ ছাড়াই ছাত্রশিবির সিলেট মহানগরী সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবসহ প্রায় ১৭ জন নেতাকর্মীকে অন্যায় ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫ জন নেতাকর্মীকে। এভাবে প্রতিদিনই অন্যায় ভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পরিকল্পিত ভাবে সারাদেশে জামায়াত-শিবির ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের উপর ধরপাকড় চালাচ্ছে সরকার।

নির্বিচার গ্রেফতারের মাধ্যমে ছাত্রদের শিক্ষা জীবন নষ্ট করে দিচ্ছে। বেআইনি ও অমানবিক গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে অবৈধ সরকার নিজেদের দেওলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার নামে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গ্রেপ্তারের পরপরই আইনের তোয়াক্কা না করে নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন নিপীড়ণ চালাচ্ছে।

জাতীয় সংকটকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ আওয়ামীলীগ যে আজ কতটা দেউলিয়া হয়ে গেছে তা তাদের কর্মকান্ডেই পরিস্কার হয়ে গেছে। কিন্তু গ্রেপ্তার নির্যাতন আর মিথ্যা মামলা দিয়ে অবৈধ সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।

অবিলম্বে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল নেতাকর্মীর নামে দেয়া সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বিচার গণগ্রেপ্তার বন্ধ ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় ফ্যাসিবাদী সরকারের এই স্বৈরাচারি আচরণ দেশে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। আর সব কিছুর জন্য সরকার ও প্রশাসনকেই দায়ী থাকতে হবে।

নেতৃবৃন্দ গণগ্রেফতার ও গণহয়রানি বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Facebook Comments