শেষ ওভারে মোস্তাফিজ জাদুতে অবিস্মরণীয় জয়

শেষ ওভারে মোস্তাফিজ জাদুতে অবিস্মরণীয় জয় পেল বাংলাদেশ। রবিবার এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে আফগানিস্তানকে তিন রানে হারাল টাইগাররা। এই জয়ে টাইগারদের ফাইনাল খেলার আশা টিকে থাকল। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

এদিন বাংলাদেশের দেয়া ২৪৯ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ২৪৬ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান। জয়ের জন্য শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল আট রান।

তাদের হাতে ছিল চার উইকেট। এসময় ব্যাটিংয়ে ছিলেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ও রশীদ খান। আর বোলিংয়ে ছিলেন ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমান।

(ঢাকাটাইমস

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে ২৫০ উইকেট শিকারীর তালিকায় নাম লেখালেন মাশরাফি। আফগান ব্যাটসম্যান হাসমতউল্লাহ শহীদিকে বোল্ড করে এই এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেন তিনি।

এর কিছুক্ষণ আগেই দারুণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশের কপালে ভাঁজ ফেলেছিলেন হাসমতউল্লাহ ও আসগর। এরমধ্যে অর্ধশত রানও পূরণ করে ফেলেছিলেন হাসমতউল্লাহ।

অবশেষে সেই জুটি ভেঙ্গে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান মাশরাফি। দলীয় ১৬৭ রানে আসগর আফগান প্যাভিলয়নে পাঠান টাইগার দলপতি। এটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৪৯তম উইকেট।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৪৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০০ রান। জয়ের জন্য ৩০ বলে ৫০ রান প্রয়োজন তাদের।

এর আগে, নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই আফগান শিবিরে আঘাত হানলেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। দলীয় ২০ রানে ইহসানুল্লাহকে নাজমুল হোসাইন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেন ফিজ।

এর কিছুক্ষণ পরই সাকিবের দুর্দান্ত এক থ্রোতে রান আউটের ফাদে পড়ে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। মাত্র ১ রান করে ফিরে যান রহমত শাহ। ব্যাট করতে নেমে ব্যর্থ হয়েছিলেন সাকিব, নিজের ভুলেই শুন্য রানে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছিল তাকে। তবে ফিল্ডিংয়ে নেমে প্রথম সুযোগেই তার প্রতিশোধ নেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার।

ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে ওঠা আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শেহজাদকে ফেরান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। নিজের প্রথম ওভারেই দুর্দান্ত এক বলে শেহজাদকে বোল্ড করেন রিয়াদ।

এর আগে, এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মাহমুদুল্লাহ ও ইমরুলের ব্যাটিং দৃঢ়তায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৪৯ রান করে বাংলাদেশ।

রোববার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

শুরুতেই টাইগার শিবিরে আঘাত হানেন আফগান ফাস্ট বোলার আফতাব আলম। ইনিংসের ৫ম তম ওভারের শেষ বলে ক্যাচ আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

তিনি করেন ০৬ রান (১৮ বল)। এরপরেই নাজমুল হোসেন শান্তর পথেই হাটেন মোহাম্মদ মিথুন। নাজমুল আউট হবার পরের ওভারেই এলবিডব্লিউর ফাদে ধরা পড়েন মিথুন। তাকে আউট করেন আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমান। মিথুন করেন ২ বলে ১ রান।

ইনিংসের ১৯তম ওভারের ৪র্থ বলে আউট হয়ে ফিরে যান লিটন দাস। তিনি করেন ৪১রান (৪৩ বল)। তাকে আউট করেন আফগান স্পিনার রশিদ খান।

এরপর রান আউটের ফাঁদে পড়েন সাজঘরে ফিরেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম।ইনিংসের ১৯ তম ওভারের শেষ বলে শূন্য রানে আউট হন সাকিব। আর ২১তম ওভারের ৫ম বলে রান আউট হন মুশফিক। তিনি করেন ৩৩ রান।

২১ ওভারে ৫ উইকেটে ৮৭ রানের দলে পরিণত হয় বাংলাদেশ। এরপর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েস রানের ১২৮ রানের জুটি করে দলকে লড়াকু পুজি এনে দেয়। ৪৭ তম ওভারের ২য় বলে ক্যাচ আউট হয়ে ৭৪ রান প্যাভিলিয়নে ফিরেন রিয়াদ। তাকে আউট করেন আফতাব আলম।

রিয়াদ আউট হয়ে ফিরে গেলে ইমরুলকে সঙ্গ দিতে আসেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। কিন্তু ৪৯তম ওভারের ৫ম বলে ১০ রান করে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন ম্যাশ।

শেষ পযন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে হারিয়ে ২৪৯ রান করে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস অপরাজিত থাকেন ৭২ রানে। আর ৮ম ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামা মেহেদি করেন ৫ রান।

আফগানিস্তানের হয়ে ৩টি উইকেট নেন আফতাব আলম। ১টি করে উইকেট নেন রশিদ খান ও মুজিব উর রহমান।

Facebook Comments