আবারো কা’বার ইমাম গ্রেপ্তার

ভিন্নমতালম্বী আলেমদের গ্রেপ্তারের অংশ হিসেবে পবিত্র কা’বা শরীফের ইমাম শেখ বানদার বিন আব্দুল আজিজ বালিলাকে গ্রেফতার করেছেন সৌদি সরকার।

কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত ১১ই সেপ্টেম্বর রাতে তায়েফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হেরেম শরীফের এই ইমামকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে সৌদিতে আলেম বন্দীদের সংখ্যা ২৬১৩ তে দাঁড়ালো।

জেদ্দার আল জারব জেলখানায় বেশ কয়েকজন বন্দী বিভিন্ন কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যা অভ্যন্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার ব্যপারে অবহেলার কারণে ঘটছে।

সৌদি আরবে অনেক রাজবন্দীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপের সংবাদ পাওয়া গেছে। পাঁচ দিন আগে সৌদি আইনজীবী ইবরাহীম আল মুদাইমিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল এবং জানা গিয়েছে, মে মাস থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল।

একই মাসের দশম তারিখে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জায়েদ আল-বানাওয়ির কারাগারে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে জটিল রোগ আক্রমণ করেছে।

তার আগে আবদুল্লাহ আল আওদাহ তার পিতা
সালমান আল আওদাহর খারাপ স্বাস্থ্য ও অধিকার আদায় নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তাকে খুব দুর্বল অবস্থানে রিয়াদের একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

গত মাসে খবর প্রকাশ পায়, শেখ সাফার আল হাওয়ালী তার চার পুত্র ও তার ভাই সা’দুল্লার সঙ্গে এক মাসের জন্য সৌদি কারাগারে ছিলেন। তিনি অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় ছিলেন, এমনকি অসুস্থতার তীব্রতা তার জীবনের জন্য বিপদজনক ছিল।

সূত্র, আল জাজিরা

নাস্তিক নয়, ইসলামী মূল্যবোধ আছে এমন প্রজন্ম চাই -এরদোগান !

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান দীর্ঘদিন ধরে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের খোলনলচে পাল্টানোর কাজ করে যাচ্ছেন।

তার প্রচেষ্টায় আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্ক কর্তৃক প্রবর্তিত অনেক নিয়ম-কানুনই আর বলবৎ নেই। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করল দেশটির সরকার।

নতুন নির্দেশনায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। দেশের সব স্কুলে মসজিদের পাশাপাশি অজুর স্থান সহ ডাইনিং রুম, প্রশাসনিক কার্যালয়, ক্যান্টিন, রান্নাঘর, আর্কাইভ রুম ও যথেষ্ট পরিমাণ টয়লেট থাকারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তুরস্ক সরকার দেশটিতে আট হাজার ৯৮৫টি মসজিদ নির্মাণ করেছে।

২০১৪ সালে তুরস্ক সরকার দেশটির সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই মধ্যে প্রায় সব মসজিদ নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী ও কোরআনে কারিমের নির্বাচিত কিছু অংশ মুখস্থ করতে হয় তাদের।

ইসলামি শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ‘আমরা ধর্মপরায়ণ এক যুব প্রজন্ম তৈরি করতে চাই। আপনারা কী মনে করেন যে একেপি পার্টি একটি ইসলামবিদ্বেষী প্রজন্ম তৈরি করবে? এটা কখনও আমাদের মিশন হতে পারে না। আমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, যারা রক্ষণশীল গণতন্ত্রবাদী ও গণতান্ত্রিক। যারা নাস্তিক নয়; জাতির নীতি-নৈতিকতা ও মূলবোধকে যারা বুকে লালন করবে।’

২০১৩ সালে এরদোগান সরকার হিজাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। ২০১৫ সালে তুরস্কের সংসদের ২৫তম অধিবেশনে আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২১ জন নারী সংসদ সদস্য হিজাব পরে শপথ বাক্য পাঠ করেন। একই বছরের আগস্টে ‘আয়েশা গোরসেন’ প্রথম হিজাবি নারী হিসেবে তুরস্ক সরকারের মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

এমিনি এরদোগানের মানবাধিকার সম্মাননা গ্রহণ

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের স্ত্রী এমিনি এরদোগান মানব সেবায় অবদানের জন্য গ্লোবাল ডোনারস ফোরামের পক্ষ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন।

ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে মঙ্গলবার তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

বিশ্বব্যাপী মানবিক আবেদনে পাশে দাঁড়ানো, বিশেষ করে মায়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নৃশংস হামলার বিষয়টি বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণে ভূমিকা রাখায় তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এমিলি এরদোগান প্রথম নারী যিনি এই সম্মানজনক পুরস্কার গ্রহণ করলেন। লন্ডনের ম্যানসন হাউজে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

পুরস্কার গ্রহণ শেষে বক্তব্যে এমিনি এরদোগান বলেন, ‘আমি এই পুরস্কার তুর্কি জনগণের পক্ষ থেকে গ্রহণ করলাম। অন্য দেশগুলোর চেয়ে তুরস্ক জাতীয় আয়ের তুলনায় বেশি মানবিক সাহায্য বিশ্বব্যাপী ব্যয় করছে।’

‘বিশ্বের কোথাও যদি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে তাহলে আমরাও তাতে আক্রান্ত হই। পুঁজিবাদি বিশ্ব যা মনুষত্বকে অন্তসারশূন্য করে তুলেছে তার বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকার চেষ্টা করি।’

‘বিশ্বের এখন মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মায়ানমারের মানবিক বিপর্যয় এই শতকের সবচেয়ে বড় লজ্জা। সেখানে আমি যা দেখেছি তা কখনো ভুলতে পারবো না।’

এ বছরের পুরস্কার প্রদানের বিষয় ছিল ‘সামাজিক উত্তেজনা এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তা’।

হত্যার হুমকি সত্ত্বেও এমিনি এরদোগান ২০১২ সালে মায়ানমার যান। সেসময় রোহিঙ্গাদের ওপর সংগঠিত জাতিগত হত্যার ব্যাপারে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন।

২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে তিনি বাংলাদেশের কক্সবাজার যান। তুরস্ক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বিপুল পরিমাণ ত্রাণ প্রদান করেছে।

এমিনি এরদোগান গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এ নিবন্ধ লেখেন। তার লেখার শিরোনাম ছিল, ‘রোহিঙ্গা মুসলিমদের অধিকার বিশ্ব অস্বীকার করতে পারে না।’

এছাড়া তিনি তুরস্কের আশ্রয় নেয়া ৩৫ লাখ সিরিয়া শরণার্থীদের জন্য কাজ করেছেন। তুরস্কের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও তার অবদান রয়েছে। প্রতিবন্ধীদের জন্যেও তিনি তৎপর ছিলেন।

অারো পড়ুন-কলম্বাস নয়,মুসলমানরা সর্ব প্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করেন – এরদোগান !

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, “বারো শতাব্দীতে মুসলমানরাই আমেরিকা আবিষ্কার করেছেন। আমেরিকার মাটিতে কলম্বাস পারাখার প্রায় ৩০০ বছর আগে এ ঘটনা ঘটেছিল।”

এরদোগান বলেন, “ইসলাম ও লাতিন আমেরিকার মধ্যে পরিচয় হয়েছে বারো শতাব্দী থেকে। ১১৭৮ সালে মুসলমানরা আমেরিকা আবিষ্কার করেছেন; ক্রিস্টোফার কলম্বাস নন।”

তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত লাতিন আমেরিকার ধর্মীয় নেতাদের এক সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় এরদোগান এ সব কথা বলেন। তার এ বক্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ১১৭৮ সাল থেকে মুসলিম নাবিকরা আমেরিকা পৌঁছাতে থাকেন এবং কলম্বাস নিজেই কিউবা উপকূলে একটি পাহাড়ের ওপর একটি মসজিদের অস্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন।

তুরস্ক সেই জায়গায় একটি মসজিদ তৈরি করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান এরদোগান। তিনি বলেন, “মসজিদ তৈরি প্রসঙ্গে আমি কিউবার ভাইদের সঙ্গে কথা বলব এবং ওই পাহাড়ের ওপর সুন্দরভাবে একটি মসজিদ নির্মিত হতে পারে।”

বেশিরভাগ ইতিহাস গ্রন্থে বলা হয়ে থাকে- ১৪৯২ সালে ভারত যাওয়ার নতুন সমুদ্র পথ আবিষ্কার করতে গিয়ে কলম্বাস ভুল করে আমেরিকায় চলে যান।

আরও পড়ুন: বিশ্ব নির্যাতিত মুসলীমদের পাশে দাঁড়ানোর শফত নিয়ে এবার জোটবদ্ধ হচ্ছে তুরস্ক-পাকিস্তান !

সামরিক দিক দিয়ে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ তুরস্ক ও পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তান নিজেদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। বিশেষ করে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করবে বলে দুই দেশ বলে সম্মত হয়েছে।

মঙ্গলবার তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসুগুলো টেলিফোনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কোরেশির সঙ্গে কথা বলেন।

Facebook Comments