খালেদা জিয়াকে হত্যার চেষ্টা হচ্ছে: ফখরুল

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কাযার্লয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন দলের মহাসচিব মিজার্ ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান।

বিএনপির মহাসচিব মিজার্ ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা সাজানো’ মামলায় শাস্তি দিয়ে কারাগারে বেআইনিভাবে এবং বিনা চিকিৎসায়

আটক রেখে হত্যা করার হীন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। অবিলম্বে যে কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার করানোর দাবি জানান তিনি। শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কাযার্লয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিজার্ ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী,

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মাসুদ অরুণ, মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মিজার্ ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের পরিবারের সদস্যবৃন্দ বৃহস্পতিবার দেশনেত্রীর সাথে দেখা করতে কারাগারে গিয়েছিলেন। তারা জানিয়েছেন, দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। তার বাঁ হাত ও বাঁ পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে।

অসহ্য ব্যথা অনুভব করছেন। তার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। একই কথা গত ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত বেআইনি আদালত কক্ষে দেশনেত্রীও বলেছেন। দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থার কারণে বিএনপি নেতাকমীর্রা শুধু উদ্বিগ্নই নয়, হতবাক এবং বিস্মিত।

দেশের প্রচলিত আইনে কোনো অসুস্থ নাগরিককে চিকিৎসা না দিয়ে বিচার কাজ চালানো যায় না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে যা হচ্ছে তা ‘সম্পূণর্ অমানবিক ও সংবিধান পরিপন্থি’।

চিকিৎসকের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, দেশনেত্রী মারাত্মকভাবে অসুস্থ। অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করে তাকে চিকিৎসা দেয়া তার জীবন রক্ষার জন্য অতি প্রয়োজন।

এখন যে অবস্থায় আছেন তাতে তার জীবন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খালেদার অসুস্থার কথা বার বার জানানোর পরও সরকার তার চিকিৎসার কোনো ‘ব্যবস্থা নিচ্ছে না’ অভিযোগ করে মিজার্ ফখরুল বলেন,

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মিথ্যা সাজানো মামলায় শাস্তি দিয়ে কারাগারে বেআইনিভাবে আটক রেখে হত্যা করার হীনচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। বিএনপি মহাসচিব বলেন,

তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাইবেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাবেন। সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তার

সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। বিশেষ করে সংবিধান লঙ্ঘন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে। সরকার খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত নিজর্ন কারাগারে

স্যাঁতসেঁতে ঘরে আবদ্ধ করে রেখেছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, একজন সাধারণ বন্দির ক্ষেত্রেও এ ধরনের আচরণ করা হয় না। কারাগারের ভেতরে আদালত বসানোর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন,

সরকার তাকে আবার শাস্তি দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এটা স্পষ্ট যে দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে এবং আসন্ন নিবার্চন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে এক তরফাভাবে নিবার্চনে নিজেদের নিবাির্চত ঘোষণা করার নীল নকশা নিয়েই এ অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সরকার।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলে জেলগেটে বিচার হয়েছে- আওয়ামী লীগ নেতাদের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,

‘জিয়াউর রহমানের সময় জেলগেটে যে বিচার হয়েছে সেটা ছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতার। তখন দেশে মাশার্ল ল’ ছিল। তখন দেশের সংবিধান রহিত ছিল। ক্যামেরা ট্রায়াল নয়। পুরোদরজা খোলাই ছিল। এটা ক্যামেরা ট্রায়াল হলো কীভাবে’।

ক্যামেরা ট্রায়াল সম্পকির্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে মোশাররফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চান। তার কথা সত্যের অপলাপ। কারণ,

পরিত্যক্ত পুরনো কারাগারের গেটের বাইরেও কত ধরনের বাধা থাকে তা সবাই জানেন। গত দুই ঈদে বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। কারাগারের গেটের বাইরে সবাইকে আটকে দেয়া হয়েছে।

তাহলে সেখানে কিভাবে দরজা খোলা থাকে বলছেন প্রধানমন্ত্রী?’ আজ দেশব্যাপী মানববন্ধন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আজ শনিবার রাজধানীসহ সারাদেশে মানববন্ধনের কমর্সূচি পালন করবে বিএনপি।

ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পযর্ন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে মানববন্ধন করবে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকমীর্রা। একই সময়ে সারাদেশের জেলা ও মহানগরগুলোতেও একই কমর্সূচি পালিত হবে।

এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুনীির্ত মামলার বিচারে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন সড়কের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বিশেষ আদালত স্থাপনের প্রতিবাদে ১০ সেপ্টেম্বর প্রতীকী অনশন কমর্সূচি পালনের কথা রয়েছে।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে অথবা ইঞ্জিনিয়াসর্ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনশনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে এই দুই স্থানের একটিতে অনশন কমর্সূচি পালন করবে বিএনপি।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতীকী অনশনের কমর্সূচি ঘোষণা করেন।

সূত্র: যায়যায়দিন

Facebook Comments