আজ পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াই !

পাকিস্তানের আইন প্রণেতারা আজ মঙ্গলবার তাঁদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রার্থী জয় লাভ করতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা বিরোধী দলগুলো যৌথভাবে কোনো প্রার্থীকে দাঁড় করাতে পারেনি।

ইলেকশন কমিশন অব পাকিস্তান (ইসিপি) গতকাল সোমবার তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জাতীয় পরিষদের পাশাপাশি চারটি প্রাদেশিক অ্যাসেম্লিতেও ভোটগ্রহণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। চিফ ইলেকশন কমিশন সরদার রাজা খান আজ রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইনের মেয়াদ শেষ হবে আগাম ৮ সেপ্টেম্বর। তিনি দ্বিতীয়বার পাঁচ বছর মেয়াদের এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে তিনজন প্রার্থী হলেন পিটিআইয়ের আরিফ আলভি, পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চৌধুরী আইতজাজ আহসান এবং জামিয়াত-ই-উলেমার (এফ) প্রধান মাওলানা ফজল-উর-রহমান।

আলভি করাচিভিত্তিক দাঁতের চিকিৎসক। পরে রাজনীতিতে এসেছেন এবং তিনি দলীয় প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারজুড়েই তাঁর পাশে ছিলেন। বিরোধী দলগুলো যৌথভাবে প্রার্থী দাঁড় করাতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত তারা মতৈক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

আরও পড়ুনঃ

তিনমাস সময় দিন, তারপর সমালোচনা করুন : ইমরান খান
ক্ষমতায় আসার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় একের পর এক ঘোষণা। মানুষের জন্য কাজ করতে তিনি যে কতটা বদ্ধ পরিকর তা একেবারে স্পষ্ট করে দিতে চাইছেন। তিনি পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

এবার বিরোধী দল ও মিডিয়ার প্রতি তাঁর বার্তা ‘আমাদের তিন মাস সময় দিন, তারপর সমালোচনা করুন’। এত কম সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ সরকারের সমালোচনা করা ঠিক নয়।

পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘প্রথম বছরটা পাকিস্তানের জন্য একটু কঠিন হবে’। অন্যদিকে ইমরান স্পষ্ট ভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন দুর্নীতি দমন করতে তিনি ঠিক কতটা বদ্ধ পরিকর।

ক্রিকেটের ময়দানে এক উজ্জ্বল ছাপ রেখে এখন রাজনীতির ময়দানেও ছক্কা হাঁকাতে বদ্ধ পরিকর ইমরান। তাঁর শাসনব্যবস্থা অন্যদের তুলনায় যে আলাদা তা স্পষ্ট ভাবেই বোঝা যাবে একথা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি।

পাশাপাশি তিনি এও বলেন তাঁর মন্ত্রীসভার কোন মন্ত্রীই স্থায়ী নন। একমাত্র কারো কর্মক্ষমতাই তার মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে। অন্যথায় তারা যেকোনো দিন পদ খোয়াতে পারেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, আমেরিকার মতো দেশ পাকিস্তানে অর্থ বিনিয়োগ করতে চাইছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিবেশী দেশ গুলির সাথেও তিনি সুসম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান। তাঁর হেলিকপ্টারে চড়ে অফিস করার প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি জনসাধারণকে সমস্যায় ফেলতে চান না।

এই ৬৫বছর বয়সী রাষ্ট্রনেতা ক্ষমতায় এসেই তাঁর একটি ১০০ দিনের কাজের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। দেশের অর্থনৈতিক ও সার্বিক উন্নতি করে দেশকে একটি ইসলামিক ওয়েলফেয়ার বা কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার শপথ নিয়েছেন তিনি।

Facebook Comments