এবার তুরস্ক আমেরিকার হুমকি ধামকির তোয়াক্কা করবেনা -এরদোগান !

এস-৪০০ ক্রয় ইস্যুতে তুরস্ককে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তুরস্ক এই ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে অনড় বলেই সেদেশের নেতাদের নানা বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান বলেছেন, রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনার জন্য কারো অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন নেই।

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে আমেরিকার নতুন হুমকির পর সম্প্রতি কিরগিজিস্তানের রাজধানী বিশকেকে তিনি এ কথা বলেন।

এরদোগান বলেন,আমরা এস-৪০০ কেনার বিষয়ে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করেছি। এর ফলে কেউ খেপেছে। তবে এজন্য আমাদের কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই।

গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র তুরস্ককে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তুরস্ক রাশিয়ার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ন্যাটো-রাষ্ট্রে নিয়ে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থাকে আমরা ন্যাটোর সাথে যুক্ত করতে পারি না। এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

এক মার্কিন পাদ্রীর বিচারকে কেন্দ্র করে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন বেড়েছে। এছাড়া আগের চুক্তি অনুযায়ী তুরস্ককে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান দিতে গড়িমসি করছে আমেরিকা।

তুরস্ক কারো অনুমতি নেবে না : এরদোগান
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে তুরস্ক কারো অনুমতি নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। খুব তাড়াতাড়ি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তুরস্কে পৌঁছবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এরদোয়ানের বরাত দিয়ে তুরস্কের মিলিয়েট নিউজপেপার বলেছে, ‘এস-৪০০ কিনতে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে, বিষয়টিতে কেউ কেউ উদ্বিগ্ন হয়েছে। আমি দুঃখিত, কারণ এ ব্যাপারে আমরা কারো অনুমতি নিচ্ছি না।’ এ খবর জানিয়েছে রুশ সংবাদ মাধ্যম তাস।

২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে ওই ক্ষেপণাস্ত্র কেনা নিয়ে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যকার আলোচনার বিষয়টি প্রকাশ হয়।

এরপর ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে আঙ্কারা মস্কোর সঙ্গে চুক্তি করেছে এবং আগাম টাকাও দিয়েছে।

কিন্তু তুরস্কের এই উদ্যোগে ক্ষুব্ধ হয় ওয়াশিংটন এবং আঙ্কারাকে সতর্ক করে যে, তারা যদি রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনে তাহলে আমেরিকা তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করবে না।

কিন্তু ওয়াশিংটনের সতর্কতায় গুরুত্ব না দিয়ে রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র কেনার কথা পুনর্ব্যক্ত করে আঙ্কারা।

ডলার বর্জনের ডাক দিলেন এরদোগান
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বিশ্ববাণিজ্যে ডলার বর্জনের ডাক দিয়েছেন। রোববার কিরঘিস্তানের রাজধানী বিশকেক এ তুরস্ক-কিরঘিস্তান ব্যাবসায়ী ফোরামে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান করেন।

তুরস্কের সংবাদ মাধ্যম ডেইলি সাবাহ এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।

ডলারের রাজত্ব শেষ করে দেশগুলোকে স্থানীয় মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য করার আহ্বান করেন এরদোগান।

বক্তৃতায় এরদোগান আরো বলেন, মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা সুবিধার চেয়ে বিপদে ফেলেছে বেশি। তুরস্কের ওপর আক্রমন এর পরিস্কার উদাহরণ। মুদ্রাবাজার এলোমেলো করে আমেরিকা তুরস্কের শক্ত ও দৃঢ় অর্থনীতিকে দুর্বল করতে চেয়েছে।

এরদোগান আরো বলেন, তুরস্কের অর্থনীতি আক্রমণের শিকার হওয়ায় আমরা স্বাধীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে আগাচ্ছি।

চীন ও রাশিয়ার সাথে মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে দেশগুলোর সাথে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য করার কথা ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, আমাদের সর্বশেষ এই পদক্ষেপ প্রমাণ করবে আমরা সঠিক পথে আছি।

এরদোগান বলেন, কিরঘিস্তানের সাথে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের বিষয়টি তুরস্ক বিবেচনায় নিয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আমেরিকা ও তুরস্ক বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। আমেরিকা তুরস্কের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তুর্কি স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যে শুল্ক দ্বিগুণ করে।

ফলে তুর্কি মুদ্রা লিরার দরপতন ঘটে। এতে অল্প সময়ের ব্যবধানে তুরস্কে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট এরদোগান আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের মার্কিন ডলারে বিশ্ববাণিজ্য বা লেনদেন বর্জনের ডাক দিলেন।

Facebook Comments