যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের আধিপত্য চিরকালের মতো শেষ করে দিতে হবে: এরদোগান !

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হিংস্র নেকড়ের মতো আচরণ করছে। এমতাবস্থায় বিশ্বের দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের ওপর থেকে নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় মুদ্রায় পরস্পরের সঙ্গে লেনদেন করা।

কিরগিজস্তানে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় রাশিয়ার সাথে ডলার ব্যতিরেকে অন্য মুদ্রায় লেনদেন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এরদোগান।

এরদোগান বলেন, রাশিয়ার সাথে লেনদেনে ডলার ব্যবহার না করে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা চলছে। আমাদের ডলারের আধিপত্যকে চিরকালের মতো শেষ করে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করতে হবে।

আর তার জন্য দরকার নিজেদের মধ্যে নিজেদের মুদ্রা ব্যবহার করা। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ডলার ভিন্ন অন্য মুদ্রা ব্যবহার করতে ইচ্ছুক তুরস্ক। এছাড়া তুরস্ক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চায়, বিশেষ করে এর প্রতিরক্ষা শিল্প খাতকে এগিয়ে নিতে চায়।

অন্যদিকে রবিবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ৭ হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের একটি মসজিদ উদ্বোধনকালে দেওয়া বক্তব্যে এরদোগান বলেন, আশা করি ইমাম সেরাহসি কেন্দ্রীয় মসজিদ’ কিরগিজস্তান ও তুরস্কের জনগণের মধ্যে ভাষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্বের স্মারক হয়ে থাকবে।

এটি আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে একতা ও শান্তি নিয়ে আসবে। কারণ ভিন্ন দেশ হলেও সর্বোপরি আমরা মুসলিম উম্মাহভুক্ত।
মসজিদ উদ্বোধনকালে এরদোগানের সাথে উপস্থিত ছিলেন কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সুরনবে জিনবেকভ।

উসমানীয় বা অটোমান স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি মসজিদটি নির্মাণে ৬ বছর সময় লেগেছে। এটি নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে তুরস্ক। এই মসজিদটিকে সামাজিক ও ধর্মীয় কমপ্লেক্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে। মসজিদ প্রাঙ্গণে ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। রয়েছে সুপরিসর পার্কিং লট। মধ্য এশিয়ায় এটিই এ ধরনের বৃহত্তম মসজিদ।

২০১২ সালে ৩৫ একর জমির ওপর মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১১ শতকের একজন প্রসিদ্ধ আলেমের নামে এর নামকরণ করা হয়েছে। মসজিদটিতে ৬৮ মিটার উঁচু চারটি মিনার রয়েছে। এখানে একসাথে ৯ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

আর মূল মসজিদ এবং এর চত্বর মিলিয়ে একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন ৩০ হাজার মুসল্লি।

এছাড়া এরদোগান বলেন, ‘তুরস্ক কারো হুমকির ভাষাকে তোয়াক্কা করে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান ধর্মযাজক অ্যান্ড্রু ব্রুনসনকে গ্রেপ্তার করার কারণে যুক্তরাষ্ট্র হুমকিমূলক বিবৃতি দেয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

এরদোগান বলেন, ‘আমাদের হুমকি দিয়ে কেউ কোনো দিন কিছু অর্জন করতে পারেনি। আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর প্রতি সবচেয়ে বেশি সংহতি দেখিয়েছি। কোরিয়া যুদ্ধের সময়ও আমরা তাদের সাথে ছিলাম।

তুরস্কের জন্য এ রকম অপমানজনক ভাষার হুমকিকে বিবেচনায় নেয়া ঠিক হবে না যেখানে আমরা ন্যাটোর প্রতি সর্বোচ্চটা দিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করুন, কিন্তু এরপরও আমরা এমন হুমকিকে তোয়াক্ক্া করি না।

সুত্র: rtn

Facebook Comments