আমেরিকাকে কোন পাত্তা না দিয়ে অস্ত্র বাড়াচ্ছে – ইরান !

আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে সামরিক শক্তি বাড়াতে মিসাইল, যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ইরান।

ইরানের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আহাদি ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে দেয়া বক্তব্যে এমন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

প্রজাতন্ত্র ইরানের সংবাদ সংস্থা (ইরনা) শনিবার এ খবর প্রকাশ করেছে।

ইরানের যুদ্ধবিমান
মোহাম্মদ আহাদি বলেন, ব্যালাস্টিক ও ক্রুস মিসাইল, পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং বিভিন্ন অস্ত্র ধারণক্ষমতার নৌ-তরি ও সাবমেরিন বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

মোহাম্মদ আহাদি এমন একসময় এ বক্তব্য দিলেন যখন পারমাণবিক পরিকল্পনার ব্যাপারে সমঝোতা করতে ফ্রান্সের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

ইরানের সাবমেরিন
এছাড়া কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে আমেরিকা। সেই সঙ্গে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এ সপ্তাহের শুরুতে ইরানের আইনজীবী আমেরিকার অবরোধ উঠিয়ে দিতে আন্তর্জাতিক আদালতকে আহ্বান করেন।

উল্লেখ্য, ইরানের ওপর আমেরিকার অবরোধ দেশটির অর্থনীতিকে দারুণভাবে পর্যুদস্ত করেছে। এই অবরোধ আরোপ ১৯৫৫ সালে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে ইরান।

ইরানের ক্রুস মিসাইল
নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে আহাদি বলেন, এই অবরোধ আমাদের দেশের অস্ত্র শিল্প প্রসারে কোনো বাধা হতে পারে না।

সংবাদ সংস্থা ইরনাকে তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। এখন দরকার শুধু গবেষণা এবং উন্নয়ন করা।

‘একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পকে যুগোপযোগী করা হবে। হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েটকে ব্যবহারিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হবে।’

সিরিয়া ও ইরাকে ইরানের অভিযানের পেছনে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে আইএস সন্ত্রাসীদের পরাজিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

‘যদি ইরান ও তার মিত্ররা থেমে যেত তবে এই এলাকার মানচিত্র এত দিনে পাল্টে যেত। পৃথিবীকে ভয়াবহ সমস্যায় পড়তে হতো।’

আগস্ট মাসে ইরান জানিয়েছিল, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তারা যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে।

একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছিলেন, শত্রুকে ধ্বংস করতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের সামরিক শক্তি সাজানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ

ইরান-রাশিয়াসহ চার দেশের কমান্ডারদের বৈঠক

ইরান,রাশিয়া, ইরাক ও সিরিয়ার শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা বৈঠকে বসেছেন।নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হয়।

শনিবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সিরিয়ার প্রতিনিধিদলের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সালিম হারবা বলেন, মানবতার জন্য হুমকি সন্ত্রাসবাদকে মোকাবেলা করার বিষয়ে চার দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মার্কিন চক্র সিরিয়ায় নতুন করে রাসায়নিক হামলা চালিয়ে দামেস্ক সরকারকে দায়ী করার ষড়যন্ত্র করছে। সিরিয়ার ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানোর ক্ষেত্র তৈরি করতে মার্কিনিরা এ ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফস অব স্টাফের নেতৃত্বে তিন দেশের সামরিক কর্মকর্তাদেরকে স্বাগত জানানো হয় এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিষয়ে সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে এ বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ইরাকে এ চার দেশের একটি যৌথ সহযোগিতা কেন্দ্র রয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর দায়েশসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এ কেন্দ্র থেকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ইউরোপের সক্ষমতা নিয়ে ইরানের সন্দেহ রয়েছে : লারিজানি

ইরানের সংসদ স্পিকার আলী লারিজানি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানেরও সে সময়ই তা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অধিকার ছিল।

কিন্তু ইউরোপের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বলেন যে, আপনারা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাবেন না। কারণ ইরান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় ইউরোপ সে পরিস্থিতি তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেছেন, পরমাণু সমঝোতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষার বিষয়ে ইউরোপের সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও ইরান পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে না গিয়ে ইউরোপকে তাদের সক্ষমতা ও দৃঢ়তা প্রমাণের সুযোগ দিয়েছে।

ইরানের সংসদ স্পিকার বলেন, ইরান সব প্রতিশ্রুতি মেনে চলছে। আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র সব প্রতিবেদনেও এ কথা স্বীকার করা হয়েছে।

আমেরিকাকে ছাড়াই পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে ইউরোপের সঙ্গে ইরানের আলোচনা শুরু হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে ইউরোপের প্রতিনিধিরা বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলার লক্ষ্যে তারা একটি প্যাকেজ প্রস্তাব তুলে ধরবেন।

Facebook Comments