আমেরিকার কোন দাবি পাকিস্তান মানতে বাধ্য নই- ইমরান খান!

আমেরিকার পক্ষ থেকে কোন একতরফা দাবী চাপিয়ে দেয়া হলে পাকিস্তান তা মানবেনা , বলে জানিয়ে দিলেন নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর এই প্রথম তিনি এমন কথা বললেন।

শনিবার, সরকারপ্রধান হিসেবে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে ইমরান এমন কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, আমেরিকা একটি পরাশক্তি।তাই বলে, আমরা আমেরিকার যে কোন অন্যায় সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারিনা। এমনকি যদি এমন কোন সিদ্ধান্ত আমাদের উপর চাপিয়ে দেবার চেষ্টা করা হয়, তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব।

ইমরান খান এমন সময় এই কথা বললেন, যখন কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তান সফরে আসবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং জয়েন্ট চীফ অব স্টাফ জেনারেল জোসেফ ড্যানফোর্ড। তারা উভয়েই আগামী ৫ই সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদে ইমরান খানের সাথে বৈঠকে অংশ নেবেন।।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ড্যানফোর্ড ও পম্পেও পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন।

অারো পড়ুন-৩ মাস সবুর করতে বললেন ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তার আগে ক্ষমতায় থাকা পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের রেখে যাওয়া আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করবে তার সরকার। তিনি দেশের গণমাধ্যমকে তার সরকারের সমালোচনা করতে অন্তত আগামী তিনটি মাস অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেছেন।

তিনি বলেন, এই তিন মাস তার সরকারের কার্যক্রম দেখেই যেনো সমালোচনায় নামেন সবাই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন টেলিভিশনের অ্যাংকরদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুক্রবার ইমরান খান এ অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ সময় ক্ষমতাসীন তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলেন গণমাধ্যম কর্মীরা।

ইমরান খান বলেন, আমাদের সরকারের পারফরমেন্স নিয়ে সমালোচনায় নামার আগে অন্তত তিনটি মাস অপেক্ষা করুন। এই তিন মাসের মধ্যে বর্তমানে যেভাবে সরকার পরিচালিত হচ্ছে, তা ব্যাপকভাবে বদলে যাবে।

তার আগের সরকারের বিতর্কিত চুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইমরান খান বলেন, তার পূর্বসূরির সই করা সব চুক্তিই তিনি পুনর্বিবেচনা করবেন।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী বলেন, তার আগের সরকারের চুক্তিগুলো বাতিল করে দেয়ার কথা বলেননি ইমরান খান। তিনি বলেছেন, এসব চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে!

অারো পড়ুন-সদ্য বিবাহের পর বাসর না করেই যুদ্ধে গিয়ে শহীদ হন তুর্কি যে সেনা!

প্রতিনিয়ত বিশ্বজুড়ে ঘটে চলেছে কত রকমের ঘটনা। তার সব আমারা জানতে না পারলেও কিছু কিছু ঘটনা আমরা জানতে পারি মিডিয়ার মাধ্যমে কিন্তু সেই সংবাদ গুলোই আমাদেরকে বিস্মিত করে দেয়।

যেমনটি তুরস্কের এই ঘটনাটি
গত শনিবার সিরিয়ার আফরিনে নিহত ৮ তুর্কি সেনাকে শুক্রবার দাফন করা হয়েছে। এর মধ্যে এক সেনা ছিলেন সদ্য বিবাহিত। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ওই সেনা সদস্য বিয়ে করেন।

কিন্তু ওই সময়ে আফরিন অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হলে তিনি তার বাসর ও বৌভাত অনুষ্ঠান স্থগিত করে যুদ্ধে অংশ নেন। প্রায় দুই মাস আফরিনে যুদ্ধরত অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।

সিরিয়ার আফরিনে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কুর্দি যোদ্ধা ওয়াইজিপির ৩০ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা ফাঁস হয় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হবার পরপই তুরস্কের এরদোগান সরকার নড়েচড়ে বসে। তুরস্ক দীর্ঘ দিন ওয়াইজিপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। ওই খবরের পর অঙ্কুরেই তাদের নির্মূল করতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক।

অভিযানে এ পর্যন্ত তুরস্কের ৪১ সেনা নিহত হয়েছে। অপর পক্ষে ওয়াইজিপির শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ওয়াইজিপির হামলায় তুরস্কের ৮ সেনা নিহত হয়। শুক্রবার সেনাদের জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। নিহতদের শহীদ আখ্যায়িত করে শুক্রবার জুমা নামাজের পর তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

খবরে আফরিনে যুদ্ধ করতে যাওয়ার আগে সেনাদের শেষ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। নিহত মোহাম্মদ দিনেক নামে এক সেনার মা জানান, তার সন্তান আফরিনে যাওয়ার আগে বলেছিল ‘এলাকাটি খুব কুয়াশাচ্ছন্ন। আমাকে দোয়া করবেন।

আমরা ওখানে (আফরিনে) যাচ্ছি শহীদ হওয়ার জন্য’। এ সময় মা তার ছেলের কফিন জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।

দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ, এরদোগান কি পারবেন?

সাম্প্রতিক অতীতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে তুরস্কের অর্থনীতি। এক দিকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ধাপে ধাপে কমছে তুর্কি মুদ্রা লিরার মান, অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্র আরোপ করেছে তুর্কি পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক। দুইয়ে মিলে কঠিন সময় পার করছে তুরস্ক।

তবে ঝানু রাজনীতিক রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান যে বিচলিত হওয়ার পাত্র নন, সেটা সেটিও বুঝিয়ে দিচ্ছেন প্রতিটি পদক্ষেপে। ইতোমধ্যেই পাশে পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই ইউরোপীয় মিত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও তার একে পার্টির সরকার চাইছে দ্রুত সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে, তথাপি সেটি খুব একটা সহজ হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

দীর্ঘ দিনের ঋণনির্ভর অর্থব্যবস্থা পেছনে ফেলে একে পার্টির সরকার যখন তুরস্ককে সমৃদ্ধ অর্থনীতির পথে চালিত করছে, তখনই নতুন করে মোকাবেলা করতে হচ্ছে এ চ্যালেঞ্জের।

এক সময় দেশটি ছিল বিদেশী ঋণে জর্জরিত; কিন্তু ২০০৩ সালে এরদোগান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই পাল্টাতে থাকে চিত্র। অন্যান্য সব সেক্টরের মতো অর্থনীতিকেও স্বনির্ভর করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় সরকার। ফলটাও আসতে থাকে হাতেনাতে। প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগ আসে এ সময়ে।

২০১২ সালের মধ্যে বিদেশী ঋণ শোধ করে স্বনির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করে ইউরোপের মুসলিম প্রধান দেশটি; কিন্তু সেই পথ চলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবারের অর্থনৈতিক সঙ্কট।

নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিবে তুরস্ক
২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার পর এটিই সবচেয়ে বড় সঙ্কট তুরস্কের অর্থনীতির জন্য। বছর খানেকেরও বেশি সময় ধরে ধাপে ধাপে কমছে তুর্কি মুদ্রা লিরার মান।

এখন পর্যন্ত সব মিলে যা প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমেছে মার্কিন ডলারের বিপরীতে। মাঝারি অর্থনীতির কোনো দেশের জন্য যা বড় ধাক্কা। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের সমান হয়েছে ৬ দশমিক ২০ লিরা, এক বছর আগে যা ছিল সাড়ে তিন লিরারও কম। অনেক দিন ধরেই এ সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় তুরস্ক, যদিও সমস্যা কাটছে না বরং আরো প্রকট হচ্ছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই আবার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শুরু হয়েছে ‘বাণিজ্যযুদ্ধ’। রূপ ভিন্ন হলেও দুটি সঙ্কটই অর্থনীতি সংশ্লিষ্ট, তাই দ্বিমুখী চাপে পড়েছে তুরস্কের অর্থনীতি।
দুটি সেক্টরে তাই লড়তে হচ্ছে তুরস্ককে। একটি নিজের সাথে অর্থাৎ মুদ্রার মান স্থিতিশীল করা ও মার্কিন ডলারের সাথে ব্যবধান কমিয়ে আনা। অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে, যা শুরু হয়েছে ট্রাম্প কর্তৃক স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে।

যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প কারখানায় যেসব দেশ স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহ করে, তুরস্কের নাম সেই তালিকার ওপরের দিকেই।

২০১৭ সালে দেশটি থেকে এক শ’ কোটি ডলারের বেশি স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগস্টের শুরুতে এ পণ্যে আমদানির ওপর হঠাৎ করেই ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে হোয়াইট হাউজ।

প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটাতে প্রেসিডেন্ট এরদোগান তার দেশের নাগরিকদের অনুরোধ করেছেন ডলার বয়কট করে লিরা মজুদ করতে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য আপদকালীন বিশেষ প্যাকেজ চালু করেছে তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে নেয়া হয়েছে আরো বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ। অন্য দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘বাণিজ্যযুদ্ধে’ কূটনৈতিক কৌশল অবলম্বনের পথই বেছে নিয়েছে আঙ্কারা।

এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল যুক্তরাষ্ট্র আর তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী তুরস্কের। ছয় দশক দেশ দুটি সামরিক, কূটনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চলেছে হাতে হাত রেখে।

যুক্তরাষ্ট্র চাইত ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড তুরস্ককে নিজেদের বলয়ে রাখতে। (ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য আর মধ্য এশিয়ার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত তুরস্ক কৌশলগত দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্র)।

আঙ্কারায় একে পার্টির সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ চিত্র পাল্টাতে থাকে। শুধু পশ্চিমামুখী অবস্থান থেকে সরে এসে রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ বাড়াতে থাকে তুরস্ক। যেটি ওয়াশিংটনের জন্য স্বস্তির বিষয় ছিল না।

Facebook Comments