জামায়েতে ইসলামি কি দেওলিয়া সংগঠন ? রাজনীতিতে জামায়েত নিয়ে যতো কথা!

জামায়েতে ইসলামি কি দেওলিয়া সংগঠন ?
রাজনীতিতে জামায়েত নিয়ে যতো কথা!
মহাজোটে জামায়েত থাকতে পারবে কি পারবে না।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে বর্তমান সংসদ ছাড়া সবগুলো সংসদেই প্রতিনিধি ছিলো দলটির, বর্তমানে সুষ্ট নির্বাচন দিলে জামায়েত তৃতীয় হবে এটিও নিশ্চিত। চেয়ারম্যান মেম্বার এমপি মন্ত্রী হওয়ার মতো হাজার হাজার লোক জামায়েতে ইসলামীতে আছে।

সকল ক্ষেত্রে মহিলা এমপি মহিলা চেয়ারম্যান, মহিলা মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা রাখে।ঢাকা থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলায় উপজেলায় ওয়ার্ড ইউনিয়নে পাড়া মহল্লায় জামায়েতের রয়েছে শক্ত ও সচল কমিটি ।

বর্তমান সাংবিধানিক কারনে রাজনৈতিক ভাবে জামায়েত যদিও একটু কোন ঠাসা তবুও তাদের সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত । তাদের রয়েছে নিরব সমর্থন করার মতো লক্ষ লক্ষ জনতা, রয়েছে মহিলা সংগঠন,

রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এমন প্রায় অনেকেই এখন জামায়েত করেন। হিন্দু বৈধ্য খৃষ্টান এমন অনেকেই জামায়েতের রাজনীতিতে যুক্ত আছেন বা সমর্থন করেন। হাজার হাজার আলেম ওলামা ইমাম খতিব মুফাসসির রয়েছেন জামায়েতে, জামায়েতের রয়েছে বিশাল ইসলামী সাহিত্য ভান্ডার।

রয়েছে কুরআন হাদিসের তাফসির তরজমা ও অনুবাদ সেন্টার আরো রয়েছে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা , সমাজ সেবায় রয়েছে অনেক হাসপাতাল ।

রয়েছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের মতো মেধাবী ও সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন।
সবচেয়ে বড় বিষয় দলটি ইসলামের ইখতেলাফি বিষয়ে সব সময় মধ্যম পনতা অবলম্বন করে থাকে।

এবার মুল কথায় আসি, যেই দলের কমিটি নাই, সভাপতি থাকলে সেক্রেটারী নাই, দল থাকলে অফিস নাই, নেতা থাকলেও ভোট নাই। এমন দলের নেতারা যখন জামায়েতের বিরুদ্ধে কথা বলেন তখন আমার কাছে এমন একটি প্রশ্ন

জাগে যে এই লোকগুলোকে মিডিয়াতে কথা বলার জন্য কি কেউ অক্সিজেন দেয় কি না? বা মিডিয়া তাদেরকে এতোটা সাপোর্ট কেন করেন? মিডিয়া তাদের তিন জনের মিটিং অনেক বড় করে দেখায় কেন ? কিন্তু জামায়েতের ব্যপারে এদের কাভারেজ ভিন্ন ।

জামায়েত বিএনপি জোট নিয়ে অনেক কথাই হচ্ছে, কেউ কেউ বলছেন জামায়েত যদি বিএনপির সাথে থাকে তা হলে এরা বিএনপির সাথে জোটে আসবে না। আবার এই কথাগুলো যারা বলেন তাদের ০.১ পার্সেনট ভোটও বাংলাদেশে নাই, বিপরীতে জামায়েতের রয়েছে ১৬% ভোট বা কম বেশি হতেই পারে,

এখন ০.১ পার্সেনট ভোট নিয়ে যারা ১৬% ভোটারদের দলের রিরুধীতা করেন, তারা কি জোট করতে চায় নাকি কারোর এজেন্ট হয়ে কাজ করতে চায়? মজার ব্যপার হলো যারা জামায়েতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাদের ১০০ দল

এক জোট করেও জামায়েতের সমান ভোট হবে না। তা হলে তারা কি বিরুধীতার খাতিরেই বিরুধীতা করছেন ? নাকি কাউকে আজীবন ক্ষমতায় থাকার রাস্তা করে দিচ্ছেন ?

তা ছাড়া আমরাতো জানি জামায়েত ক্ষমতার রাজনীতি করে না বরং ইসলামের দাওয়াত নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে দলটি। সর্বশেষ কথা হলো জোটের রাজনীতি থাকুক পাশা পাশি জোট গঠনে গণতন্ত্রও থাকতে হবে,

আর জোট গঠনে গণতন্ত্র মানেই হলো যে কোন দল যে কোন দলের সাথে রাজনৈতিক জোট বা নির্বাচনী জোট করতেই পারে । তবে আদর্শ হবে ভিন্ন ভিন্ন । আসুন দেশকে ভালোবাসি দেশকে এগিয়ে যেতে সহযোগীতা করি।

কারন এই দেশ আমার আপনার সকলের। আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য শান্তি ও সনির্বরতার একটি দেশ উপহার দিয়ে যেতে পারি আল্লাহ তাওফিক দান করুন।

বিঃ দ্রঃ লিখাটি আমার ব্যক্তিগত মতামত মাত্র, এটি কোন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির মতামত নয়। বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি আমার মতামত প্রকাশ করলাম মাত্র। বিষয়টি রাজনৈতিক ভাবে না দেখার অনুরুধ করছি।

মোল্লা নাজিম

Molla Nazim

Facebook Comments