বাঁচতে চান ছাত্রলীগ নেতা রানা

যার তারুণ্যদীপ্ত ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে কিছুদিন আগেও মুখরিত হতো ছাত্রলীগের মিছিল সেই তাওহিদুজ্জামান রানা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

অর্থাভাবে চিকিৎসা থেমে যাওয়ায় মাত্র ১৬ লাখ টাকার জন্য তার জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ার পথে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা তাওহিদুজ্জামান রানা মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।


পরিবার সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল শাহজাহাল (র.) মেডিকেল ইনস্টিটিউশন থেকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পাস করা তাওহিদুজ্জামান রানা উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার মহেড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

রানার বড় দুই বোন রয়েছে। এক বোন বিয়ে দিয়েছেন।সংসারে রয়েছেন রানা, বড় এক বোন ও মা-বাবা। বাবা আবুল হোসেন পেশায় একজন পশু চিকিৎসক। গ্রামে গ্রামে গিয়ে পশু চিকিৎসা করে যা আয় করেন তা দিয়েই সংসার চালাতে হয়।

এর মধ্যে ছেলের গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ায় আয়-রোজগার বন্ধ করে ছেলের সঙ্গে ভারতের হায়দরাবাদে রয়েছেন। একদিকে সংসার চালানো এবং অপরদিকে ছেলের চিকিৎসা সব মিলিয়ে রানার পরিবারটি এখন হতাশায় দিন কাটাচ্ছে।

তাওহিদুজ্জামান রানা বর্তমানে গলায় ও ঘাড়ে ক্যানসার (ননহসকিন লিস্ফোমা) আক্রান্ত হয়ে ভারতের হায়দরাবাদের “যশোদা হাসপাতালে” চিকিৎসাধীন।
জানা গেছে, ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী তাওহিদুজ্জামান রানা গত তিন মাস আগে গলায়

ব্যাথা অনুভব করেন। প্রথমে তিনি টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পরীক্ষা করান। সেখানে তারা সঠিক রোগ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হলে ঢাকায় পরীক্ষা করালে তার গলায় ও ঘাড়ে ক্যানসার ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন।

সেখানে তার বোনম্যারো পরীক্ষা করা হয়েছে। তাকে এখন পর্যায়ক্রমে ৮টি ক্যামো থেরাপি দিতে হবে। প্রতিটি ক্যামোতে প্রায় ২ লাখ টাকার খরচ হবে। সে হিসেবে তার ৮টি ক্যামো থেরাপির জন্য ১৬ লাখ টাকার প্রয়োজন।

এছাড়া থাকা খাওয়া ও ওষুধ বাবদ আরও টাকা প্রয়োজন বলে রানার বড় বোন আশরাফুননাহার জানিয়েছেন।এই বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে রানার চিকিৎসা করানো তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয় বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন রানা।

রানার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘ভাই আমাকে বাঁচতে সাহায্য করুন, ভাই আমি ৫ মাস যাবত অসুস্থ। দীর্ঘ দিন বাংলাদেশে চিকিৎসার পর আমি ইন্ডিয়াতে চলে আসছি। বর্তমানে আমার গলাতে লিস্ফোমা ক্যান্সার হয়েছে।

কাল ব্রৌন মেরু টেস্ট করে কেমু দিতে হবে প্রতিটা কেমু প্রায় ২ লক্ষ্য টাকার মেতা। এখন আমাদের কাছে অল্প কিছু টাকা আছে। মোট ৮টা কেমু দিতে হবে এমন অবস্থায় কি করি। আমাদের এখন ভিটে বাড়ি ছাড়া বেচার মতো জায়গাও নাই। ভাই আমি বাঁচতে চাই।’

রানার এই স্ট্যাটাস দেখে তার ফেসবুক বন্ধু, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সহপাঠীরা তার চিকিৎসার জন্য সাহায্য করতে বিভিন্নভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ নগদ টাকা দিচ্ছেন। আবার কেউ সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিচ্ছেন।

অপরদিকে মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ‘হেল্প ফর রানা’ লিখে একটি করে বক্স রেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।
রানার মা রেখা বেগম ও বড় বোন আশরাফুননাহার রানার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতার্মীদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মীর আসিফ অনিক ও সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, তারুণ্যদীপ্ত রানার জয় বাংলা স্লোগানে কিছু দিন আগেও রাজপথ মুখরিত ছিল। সেই রানা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ভারতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগ রানার চিকিৎসায় সাহায্য করতে সব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সমাজের বিত্তবানরা যেন রানার চিকিৎসায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সেই আহ্বান জানান এই নেতৃবৃন্দ।

রানাকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- বিকাশ এজেন্ট ০১৭৭৯৬২১৫৫৭। রেখা বেগম (রানার মা), হিসাব নম্বর ০২০০০০৭৮২০৯৩৯, আগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, মহেড়া ব্রাঞ্চ, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

রানার ইমু নম্বর ৮৮০১৭৫৪০৪০০৫৪, ভারতের যোগাযোগ নম্বর: +৯১৮৪২০৬১১২৫০, যশোদা হসপিটাল হায়দরাবাদ।

Facebook Comments