ঈদের নামাজ শেষে বন্যায় ত্রাণ সংগ্রহে জামায়াতে ইসলামী হিন্দের কর্মীরা!

সারা রাজ্যের পাশাপাশি ঈদের নামাজ শেষে নদিয়ার বিভিন্ন ঈদগাহে কেরলের জন্য বন্যা ত্রাণ সংগ্রহ করলো জামায়াতে ইসলামী হিন্দের কর্মীরা। ঈদগাহে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে কেরলবাসীদের করুন অবস্থার কথা তুলে ধরে সাহায্যের আহ্বান জানান ইমাম সাহেব।

ঈদ উল আযহার নামাজ আদায়ের পরপরই সংগঠনের কর্মীরা চাদর হাতে দাঁড়িয়ে পড়েন। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সকল নামাজিরাই এগিয়ে আসেন সাহায্যের হাত নিয়ে। জামায়াতে ইসলামীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

অারো পড়ুন- অার ছাড় নয় এবার উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে- অামেরিকা কে এরদোগান

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সোমবার তুরস্কের অর্থনীতির বিরুদ্ধে ভূয়া খবর প্রকাশকারীদের ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসী’ বলে অভিযুক্ত করে বলেছেন, তাদেরকে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে।

তিনি জানান তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব কাজে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা শুরু করে দিয়েছেন।
তুরস্কের মুদ্রা লিরার মান ডলারের বিপরীতে ৪০শতাংশ মূল্য হারিয়েছে। সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক তারল্য সংকট মোকবেলার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর লিরার মান গড়ে ৭.২৪ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

বিশ্ব বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে লিরার মান পতনের দিকে রয়েছে যা দেশটিকে মারাত্মক চাপের মধ্যে রেখেছে।
‘সোসাল মিডিয়াগুলোতে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসীরা ঝেঁকে বসেছে’ প্রেসিডেন্ট ভবনে আয়োজিত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলনে এরদোগান এমনটি বলেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিচার বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

‘তারা হচ্ছেন সত্যিকারভাবেই একটি বিশ্বাসঘাতকদের দল’ তিনি যোগ করেন। ‘আমরা তাদেরকে আর একদিনও সময় দিব না…আমরা তাদেরকে উচিত শিক্ষা দিব।’

চলতি বছরের জুন মাসে পুনঃনির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে এরদোগান নতুন ক্ষমতার অধিকারী হন, তার ক্ষমতা গ্রহণের পরেই এরকম গুজব ছড়াতে থাকে যে, কর্তৃপক্ষ হয়তোবা চলমান অর্থনৈতিক মন্দা অবস্থা কাটানোর জন্য মুদ্রা ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এরপর হঠাৎ করেই ১৮ শতাংশ দরপতনের সম্মুখীন হয়।

তুরস্কের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রনালয় জানায়, তারা ইতিমধ্যে তুর্কি অর্থনীতি সম্পর্কে ভূয়া খবর প্রকাশের দায়ে ৩৪৬টি সোসাল মিডিয়া একাউন্টের বিরুদ্ধে তদন্ত আরম্ভ করেছে, যার ফলে দেশটির অর্থনীতি সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিচ্ছে।

সিএনএন তুর্ক এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আনাদোলু জানায়, ইস্তাম্বুল এবং আঙ্কারার আইন কর্মকর্তাদের দপ্তর তুরস্কের অর্থনীতির জন্য হুমকি স্বরূপ এমন সোসাল মিডিয়া পোস্ট শনাক্ত এবং এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য একটি তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

তুরস্কের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রকরাও দেশটির অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এমন ভূয়া খবরের বিরুদ্ধে তদন্ত করার এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে।

সম্প্রতি তুরস্কের অর্থমন্ত্রী বেরাত আলবাইরাক (যিনি এরদোগানের জামাতা), বলেন সোমবার তুরস্ক একটি গ্রহণযোগ্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েছে।

অর্থনীতিবিদগণ বলেন, লিরার দর পতন তুরস্কের অর্থনীতিতে এরদোগানের প্রভাব পড়ার ভীতির কারণ হয়েছে। কারণ তিনি বারবার সুদ কমানোর পক্ষে কথা বলেছেন এবং খ্রিস্টান যাজক এন্ড্রু ব্রানসনের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তুরস্কের সম্পর্ককে হুমকির সম্মুখীন করেছেন।

এরদোগান সোমবার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, তুরস্কের অর্থনৈতিক মন্দাভাবে কোনো অর্থনৈতিক মূলনীতির ভিত্তি নেই, এটা হয়েছে যাজক এন্ড্রু ব্রানসনের বিচার থামানোর জন্য যুক্তরাষ্টের সন্ত্রাসীমূলক নিষেধাজ্ঞার কারণে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই আচরণকে একটি ন্যাটো মিত্রের ‘পেছন থেকে চুরি মারার’ সাথে তুলনা করেন।

এবার আমেরিকার বিরুদ্ধে মামলা করলো তুরস্ক

তুরস্কের দুই পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে (ডাব্লিউটিও) মামলা করেছে তুরস্ক। সোমবার তুরস্কের পক্ষ থেকে এ মামলা করা হয়েছে বলে খবর দিয়েছে তুরস্কের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।

খবরে বলা হয়েছে, তুরস্কের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং জেনেভাকেন্দ্রীক বিচারিক আদালতে তোলার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে তুরস্কের দুই পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শতভাগ শুল্ক বৃদ্ধি করেন ট্রাম্প।

আমেরিকার শুল্ক বৃদ্ধির প্রতিবাদে বেশ কয়েকটি মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে তুরস্ক। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির গেজেট প্রকাশ করেছে দেশটি।

ডেইলি সাবাহ’য় প্রকাশিত খবর
আমেরিকার বিরুদ্ধে ডাব্লিউটিওতে লিখিত অভিযোগে তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমেরিকা শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যেমে ডাব্লিউটিওর আইন ভঙ্গ করেছে। ডাব্লিউটিওর ১৯৯৪ সালের জেনারেল এগ্রিমেন্টের ধারা লঙ্ঘন করেছে আমেরিকা।

ডাব্লিউটিওর নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তুরস্ক ও আমেরিকা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে পারবে। ৬০ পার হয়ে গেলে ডাব্লিউটিও তার নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

তুর্কি লিরার দরপতন: কী ঘটছে, কী ঘটবে?

মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ তুরস্ক নিকট অতীতে ব্যাপক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত বছর দেশটিতে বাজেট উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ১৩০ কোটি লিরা। রফতানি করে দেশটি গত ১২ মাসে আগের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি আয় করেছে।

ক্রমাগত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে ডলারের বিপরীতে তুরস্কের মুদ্রা লিরার মান বেড়েছে। এ বছরের এপ্রিলে ৪ লিরায় ১ ডলার পাওয়া গিয়েছে।

তবে আমেরিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় ডলারের বিপরীতে লিরার মান কমে গিয়েছে। লিরার দরপতনের কারণ ও প্রভাব বুঝতে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পেতে হবে।

লিরা সংকটের কারণ কী?

তুরস্কের দু’টি পণ্যে আমেরিকার দ্বিগুণ শুল্ক বৃদ্ধি হচ্ছে মূল কারণ। তবে ঘটনার সূত্রপাত তুরস্কে বসবাসরত খ্রিস্টান ধর্মযাজক এন্ড্রু ব্রানসনকে নিয়ে।
২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান হয়। ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় আমেরিকা জড়িত বলে সরাসরি অভিযোগ এনেছিল তুরস্ক সরকার।

অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে আমেরিকার নাগরিক ব্রেনসনকে দেশটির পুলিশ গ্রেফতার করে। আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর না করে জেলহাজতে পাঠায় এবং সর্বশেষ গৃহবন্দির আদেশ দিয়েছে।

আমেরিকার আহ্বান সত্ত্বেও ব্রানসনের জামিন না দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তুরস্কের দুই মন্ত্রীর ওপর অবরোধ আরোপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ গত সপ্তাহে তুরস্কের অ্যালোমিনিয়াম ও স্টিলপণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান আমেরিকার এই পদক্ষেপকে তুরস্কের ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেন।

Facebook Comments