শাবিপ্রবির শিবির সেক্রেটারির সাহসী পদক্ষেপে একটা মেয়ের ইজ্জত রক্ষা পেল

শাহ মোঃ মামুনুর রশীদের ফেইসবুক ওয়াল থেকে:
আজ কয়েক দিন পর ঘুরতে বের হয়েছিলাম রেজাউল ভাইয়ের সাথে। অনেক ঘুরাঘুরি করলাম, তবে দিনশেষে একটা তিক্ত ঘটনার সম্মুখীন হলাম।

মাগরিবের নামাজ পর ঠিলাড়গাও গিয়ে কিছুসময় আড্ডা দিলাম।এশার নামাজ পর আসলাম আখালির দিকে। হঠাৎ আমি বললাম রেজা ভাই আসেন আমার সাবেক মেস হায়দরপুর থেকে ঘুরে আসি।

রেজা ভাই বললেন চল যাই। আমরা যখন ভার্সিটি গেইট অতিক্রম করে বিদ্যুত কেন্দ্রের সামনে গেলাম। তখনই ঘটল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হঠাৎ একটা ১৭/১৮ বছরের মেয়ে চিৎকার করে আমাদের গাড়ির সামনে আমারে বাঁচাও আমারে বাঁচাও বলে দৌড়ে আসে।

রেজা ভাই বললেন গাড়ি থামাও।গাড়ি থামিয়ে মেয়েকে বললাম কি হয়েছে? মেয়েটি বলল আমাকে একটা ছেলে সি এন জি গাড়িতে তুলে আমার গায়ে হাত দিয়েছে। আমি তাকে চিনি না।

আমরা বুঝতে না বুঝতেই বীরের বেশে ছেলেটি আসল,বলল মেয়েটি আমার কলোনি থেকে পালিয়ে এসেছে, আমি তাকে নিতে এসেছি, এদিকে মেয়েটি বলছে ছেলেটিকে আমি চিনি না আজকেই প্রথম দেখলাম। মেয়েটি কাঁপছে।

ছেলেটি আমাদের সামনেই মেয়েটিকে কেটে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। হঠাৎ করে রেজা ভাই ছেলেটির হাতে ধরে বললেন চল ভার্সিটি গেইটে আস।ছেলেটি আসতে চায়নি।

এক রকম জোর করেই রেজা ভাই তাকে সি এন জি তে উঠালেন।রেজা ভাইয়ের দমকে ছেলেটা দুর্বল হয়ে যায়, ততক্ষণে কিছু উত্তম মধ্যম হয়ে যায়। এর মধ্যে মেয়েটির ভাই এসে হাজির। রেজা ভাই পুলিশের জন্য ফোন করলেন।

তখন ছেলেটি রেজা ভাইয়ের পায়ে ধরে মাফ চাইতে থাকে, মেয়েটার কাছে ও মাফ চায়। মেয়েটার ভাইও রেজা ভাইকে অনুরোধ করে পুলিশ না আনার জন্য। মান সম্মানের ভয়ে পুলিশি ঝামেলায় যেতে চায়নি।এদিকে ছেলেটিও বারবার পা ধরে মাফ চাইতে থাকে।

কি আর করা ছেলেটাকে ছেড়ে দিতে হল। তবে ছেলেটির অসৎ উদ্দেশ্য ছিল এতে সন্দেহ নাই।রেজা ভাইয়ের সাহসী পদক্ষেপের কারণে আজ একটা মেয়ে লম্পটের হাত থেকে রক্ষা পেল। মেয়েদের প্রতি অনুরোধ রাস্তাঘাটে চোখকান খুলে চলাফেরা করতে।

বিশেষ করে যাত্রীহীন সি এন জি তে যাতায়াতের সময় পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। কারণ একটু অসতর্কতা সারা জীবনের আপসোসের কারণ হতে পারে।আল্লাহ সবার বোন ভাগনীকে হেফাজত করুন।

Facebook Comments