শরীয়তপুর-চাদঁপুর ফেরীঘাটে রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিনিধি,শরীয়তপুর(রক্তভেজা২৪)

শরীয়তপুর-চাদঁপুর মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকার পর ঈদকে সামনে রেখে সড়ক মেরামতের ফলে আবারও পারাপার শুরু হয়েছে। তারসাথে পাল্লা দিয়ে শুরু হয় নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ। রসিদবিহীন অতিরিক্ত টাকা আদায়, সিরিয়াল দেয়ার নামে চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের কারনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এ রুটে যাতায়াতকারী চালকরা।

চালক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ঘাটে নানারকম অনিয়ম এবং চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করা হলেও এর বিপরীতে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের নরসিংহপুর ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার শত শত যানবাহন পারাপার হয়।

বিআইডব্লিউটিসির নিয়মানুযায়ী ঘাটে প্রতিটি ২০ টন ওজনের ছোট গাড়ির জন্য ১৪০০ টাকা এবং ২৩ টন ওজনের বড় গাড়ির জন্য ১৮৫০ টাকা আদায়ের কথা রয়েছে। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ’র শুল্ক বাবদ ১১০ টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি টন ওজনের জন্য নেয়া হয় আলাদা ১৬০ টাকা করে।

কিন্তু শুক্রবার রাতে নরসিংহপুর ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৪ টন ওজনের প্রতিটি গরুভর্তি ট্রাক থেকে ২৫০০ টাকা করে আদায় করছেন বিআইডব্লিউটিসি’র টার্মিনাল সহকারী ওবায়েদুর রহমান ও বিআইডব্লিউটিএ’র শুল্ক আদায়কারী ওসমান গনি।

আর চালকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বিআইডব্লিউটিসির ১৮৫০ টাকার এবং বিআইডব্লিউটিএ’র ১১০ টাকার রসিদ। অর্থাৎ ৫৪০ টাকা করে বেশি আদায় করা হচ্ছে প্রতিটি গাড়ি থেকে। যদিও এসব গাড়িতে অতিরিক্ত ওজনের কোনো মালামাল নেই।

সাতক্ষীরা থেকে গরুভর্তি ট্রাক নিয়ে আসা মশিউর রহমান বলেন, রশিদে ১৮৫০ টাকা এবং ১১০ টাকা উল্লেখ রয়েছে কিন্তু দিতে হয়েছে ২৫০০ টাকা। তাছাড়া সিরিয়ালের জন্য আলাদা ১০০ টাকা দিতে হয়েছে একেক জনকে। এখন বেশি নিলে আর কী করার আছে! গরু নিয়ে চট্টগ্রাম যেতেই হবে। ট্রাকচালক খায়রুল ও বাবু বলেন, ‘গাড়িতে ২০টি গরু রয়েছে।

ওজন ১১ টনের মতো হবে। ঘাটে দেয়া লাগল ২৪০০ টাকা। কিন্তু রশিদে ১৮৫০ টাকা উল্লেখ আছে।

এছাড়া কাঁচামালের গাড়িপ্রতি স্থানীয় লোকজনকে ১০০ টাকা করে দেয়া লাগে। আমরা তাদের চিনি না।’ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনাল সহকারী ওবায়েদুর রহমান স্বীকার করে বলেন, অতিরিক্ত ওজনের জন্যই বাড়তি টাকা নেয়া হয়।

অনেক সময় তাড়াহুড়া করতে গিয়ে বাড়তি টাকা রশিদে উল্লেখ করতে মনে থাকে না। আর চালকদের মাঝে অনেকে এ হিসাব বোঝেন না। তবে মাঝে মাঝে বকশিশ হিসেবে দু’একশ টাকা নেই। কিন্তু স্কেল অপারেটরদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, একটা গরুভর্তি গাড়ির ওজন সর্বোচ্চ ১৫ টনের বেশি কখনই হয় না।

তাহলে অজানাই থেকে যায়। একটি গরুভর্তি গাড়িকে ১৮৫০ টাকা এবং ১১০ টাকার রসিদ দিয়ে কীভাবে ২৫০০ টাকা আদায় করলেন টার্মিনাল সহকারী। আর সরকারি কোষাগারেই জমা দিলেন কত? এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলুবাজার নরসিংহপুর ফেরিঘাটের বিআইডব্লিউটিসির সহকারী ম্যানেজার আবদুস সাত্তার মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। বিষয়টি ভালোমতো জেনে তারপর অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

Facebook Comments