বীরগঞ্জের সর্ববৃহৎ গোলাপগঞ্জ হাট কোরবানির পশুর কেনা-বেচা জমে উঠেছে!

মো: তোফাজ্জল হায়দার, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জের সর্ববৃহৎ গরু বেচা-কেনার হাট গোলাপগঞ্জ। এই গোলাপগঞ্জ হাটের গরু বেচা-কেনার ঐতিহ্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ক্রয় করার জন্য আসে ক্রেতারা বা গরু ব্যবসায়ীরা। দূর-দূরান্ত থেকে গরু, মহিষ, ছাগল কেনার জন্য আসায় গরু বিক্রেতারাও বেশি অর্থের লাভে এই হাটে তাদের পশু নিয়ে আসেন। আর কয়েকদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা।

এই ঈদকে সামনে রেখে গোলাপ হাটে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া আমদানি হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে। কিন্তু তবে গত বছরের চেয়ে এবার কোরবানির পশুর দাম স্বাভাবিক বলে জানান ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

সোমবার গোলাপগঞ্জ হাট গরুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ছোট-বড়, ষাঁড়-বলদ, বকনা-গাভী সহ প্রায় ১ হাজার গরু হাটে এসেছে।

উপজেলার ভোগনগর গ্রামের খামারি মো: শফিকুল ইসলাম হাটে বিক্রির জন্য ৯ টি ষাঁড় এনেছেন। গরু গুলির কি পরিমাণ মাংস হবে জানতে চাইলে স্থানীয় কসাই বলেন, প্রতিটি গরুর ৬ থেকে সাড়ে ৬ মণ মাংস হবে। প্রতিটি গরুর দাম চাচ্ছেন ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা।

অপর খামারি ঠাকুরগাঁও জেলার গড়েয়া গোপালপুর গ্রামের মো: রমিজ হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলার গড়েয়া গোপালপুর গ্রামের ৬টি গরু বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন হাটে। তিনি জানান প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ টি করে ষাঁড় লালন পালন করেন।

গত কোরবানীর এক মাস পর এক একটি গরু ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকায় কিনেছেন। সারা বছর একটি গরুর পেছনে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়। এই অবস্থায় প্রতিটি গরু গড়ে ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে না পারলে পোষাবেনা।

দেবীপুর গ্রামের আমিনুর ইসলাম বলেন, কোরবানির হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে এলাকার প্রতিটি কৃষক পরিবার গরু পালে। তিনি নিজে যে গরুটি হাটে এনেছেন বিক্রি করতে সেটি ৭ মাস আগে কিনেছিলেন ৩২ হাজার টাকায় গরুটি পুষে বড় স্বাস্থ্যবান করার পর এখন দাম চাচ্ছেন ৬০ হাজার টাকা কিন্তু ক্রেতা দালাল, ব্যবসায়ীরা কেউ ৪৫ হাজার কেউবা ৪৭ হাজার দাম বলছেন।

গোলাপগঞ্জ হাটে আসা গরু ব্যবসায়ী রশিদুল বলেন গতবছর ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে সেই গরুর দাম এখন ৫০ থেকে ৫২ হাজার টাকায় কিনতে হবে।

ভারত থেকে গরু আসছেনা। গতবছর কোরবানির হাটে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকাই যে গরু ক্রেতারা কিনেছেন সেই গরু ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকায় কিনতে হবে বলে তিনি জানান।

ঢাকা রাজবাড়ী গরু ব্যবসায়ী আমজাদ জানান কোরবানি ঈদের জন্য আমরা গরু নিয়ে যাচ্ছি ঢাকায়। গতবছরের তুলনায় এবার প্রতিটি গরুর দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে।

গোলাপগঞ্জ গরুর হাটে সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতা, গরুর খামার মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

হাটের ইজারাদার ধনি মিঞা জানান রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ক্রেতা এবং ব্যবসায়ীরা গরু ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। গরু ব্যবসায়ীদের সকল প্রকার নিরাপত্তার ব্যবস্থা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে গোলাপগঞ্জে ছাগলের বেশি দাম বেশি বলে জানিয়েছেন হাট ইজারাদার গেদা আলী, ক্রেতারা ও ছাগল ব্যবসায়ীরা।

বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাকিলা পারভীন জানান গোলাপগঞ্জ গরুর হাটে গরু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

Facebook Comments