২৮ অক্টোবর ২০০৬; যেদিন থেকে আমরা পরাধীন হলাম…

ইসলামী অান্দোলনের উপর পৈশাচিক অাঘাত এলো অার তার ভিকটিম হয়ে শহীদ হলেন অামার অনেক ভাই। দিনটি ছিল ২৮ অক্টোবর, ২০০৬। ইসলামী আন্দোলনের উপর আঘাত, আক্রমন আজও চলছে। শহীদ ভাইয়েরা সেদিন যেই দায়িত্বশীলদেরকে সীমান্ত প্রাচীরের মত ঘেরাও করে রক্ষা করলেন, সেই দায়িত্বশীলের অনেকেই অাজ শাহাদাতের পেয়ালা পান করেছেন।
যারা সেদিন গাজী হয়ে বেঁচে ছিলেন, সেই গুলি খাওয়া, আঘাত পাওয়া মানুষগুলোই আজ ইসলামী অান্দোলনের নেতৃত্বে। আলহামদুলিল্লাহ। খেয়াল করলে মনে হবে ২৮ অক্টোবর যেন এই ‍দুই প্রজন্মের মাঝে গড়ে ওঠা সেই সেতুবন্ধন।

বর্বরতা ২৮ অক্টোবরের আগেই শুরু হয়। গাজীপুরে জামায়াত অফিস পোড়ানো হয় ২৭ অক্টোবর, জীবন দেন জামায়াত নেতা রুহুল আমীন। বাংলাদেশের অসংখ্য জেলায় জামায়াত ও শিবিরের অফিস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

অামার শহীদ পিতা আলী আহসান মো: মুজাহিদ বলতেন, ২৮ অক্টোবর নিছক কোন ঘটনা নয়। ২৮ অক্টোবরের সিড়ি দিয়ে এই দেশে জরুরী অবস্থা এসেছে। আর জরুরী অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সেইভাবে বিলীন হয়েছে যেভাবে ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে নবাব সিরাজউদদৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে হয়েছিল।

আমরা অাজও পরাধীন। পরাধীনতার শৃংখল আষ্টে পিষ্টে জড়িয়ে রেখেছে আমাদের এখনও। বরং পরিস্থিতি দিন দিন অারও খারাপ হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সরকার ২৮ অক্টোবরের হত্যা মামলাটি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নিজেদের অমানকিতার জঘন্যতম উদাহরন স্থাপন করেছে। তাই আমরা বিচার পাইনি। শহীদের মা-বাবারা আজও চোখের পানি ফেলে অভিশাপ দিয়ে যায়। সেই অভিশাপের চোখের পানিতেই জালিমেরা ভেসে যাক, সেই প্রত্যাশায় বুক বেঁধে আছি।

২৮ অক্টোবরের ঘটনা কোন সাধারন রাজনৈতিক সংঘাত নয়। যারা সেদিন জীবন দিয়েছিলেন তারা একটি বিরাট ইতিহাসের অংশ। তারা সফল। তারা বীর। বাংলাদেশের আগামী দিনের ইতিহাস লেখা শুরু হবে তাদের ত্যাগ তিতীক্ষার গল্প দিয়েই ইনশা আল্লাহ। মহান আল্লাহ ২৮ অক্টোবরের বর্বরতার শিকার সকল শহীদকে কবুল করে নিন। আমিন।
-আলী আহমদ মাবরুর

Facebook Comments