রাজনৈতিকভাবে ইরান, ইরাকে শিয়াধর্মের উৎপত্তি

শাহ ইসমাইল পারস্য সাফাভি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে ইরানে সুন্নি মতাদর্শের পরিবর্তে দ্বাদশবাদি শিয়া মতাদর্শ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেন। ইসমাইল ১৫১০ সাল নাগাদ ইরান, আজারবাইজান, দক্ষিণ দাগেস্তান, মেসোপটেমিয়া, আর্মেনিয়া, খোরাসান, পূর্ব আনাতোলিয়াসহ বিভিন্ন স্থান জয় করেন। ইসমাইল তার সুন্নি প্রতিবেশীদের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিলেন এবং ১৫১১ সালে তিনি আনাতোলিয়ায় সংঘটিত শাহকুলু বিদ্রোহে মদদ দেন।

ইতিপূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত চিঠি চালাচালির পর উসমানীয় সাম্রাজ্যে শিয়া মতবাদের বিস্তারের কারণে সেলিম ১৫১৪ সালে সাফাভিদের উপর আক্রমণ করেন। ১৫১৪ সালে চালদিরানের যুদ্ধে সেলিমের কাছে ইসমাইল পরাজিত হন।ইসমাইলের বাহিনী উত্তমরূপে প্রস্তুতি নিলেও উসমানীয়রা কামান, মাস্কেটের মত আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। ৫ সেপ্টেম্বর সেলিম বিজয়ী হিসেবে রাজধানী তাবরিজে প্রবেশ করেন।

সুলতান ইয়াভুজ সেলিম শিয়া সাম্রাজ্য বিস্তারকারী সাফাভি শাসকদের পারস্যের মধ্যে সিমাবদ্ধ রাখার কারনে আজ আমরা সুন্নী মুসলমান। আন্যতায় ক্যাথলিক খৃষ্টান দের তুলনায় যেমন প্রোটেষ্টেন খৃষ্টান বেশী মুসলিম বিশ্বে সুলতান ইয়াভুজ সেলিমের মত বীরদের যদি জম্ম না হত তাহলে আজ সুন্নী মুসলমানের পরিবর্তে বিকৃত শিয়া মতাদর্শই বেশী বৃদ্ধি পেত। ইরান নিজেই তার জলন্ত উদাহরন, কারন ১৩ শ শতক পর্যন্ত ইরান একটি সুন্নী রাষ্ট্র ছিল কিন্তু আজ ইরান শুধুমাত্র একটি শিয়া রাষ্ট্র ছাড়া আর কিছুই নয়।

সুলতান ইয়াভুজ সেলিম হচ্ছে সুলতান সুলেমানের পিতা ও ওসমানিয়া খেলাফতের প্রথম খলিফা সুলতান মুহাম্মদ ফতিহ এর নাতি বা দোহিত্র।

Facebook Comments